২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুম শেষে গমের বৈশ্বিক মজুদ কমে আট বছরের সর্বনিম্নে নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস (ডব্লিউএএসডিই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ইউএসডিএ গমের বৈশ্বিক মজুদ প্রাক্কলন প্রায় নয় লাখ টন কমিয়েছে। মজুদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৫৬ লাখ টন, যা ২০১৫-১৬ বিপণন মৌসুমের পর সর্বনিম্ন। ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুম শেষে গমের বৈশ্বিক মজুদ রেকর্ড সর্বোচ্চ ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টনে পৌঁছেছিল। ইউএসডিএ বলছে, ২০০৭-০৮ বিপণন মৌসুম শেষে গমের বৈশ্বিক মজুদ রেকর্ড সর্বনিম্নে । ওই সময় মজুদের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৯১ লাখ টন। এ মৌসুমে আট বছরের সর্বনিম্নে নামলেও রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ের চেয়ে অনেকটাই ওপরে থাকবে।

আর্জেন্টিনা, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) লম্বা সময় ধরেই ব্যাপক খরার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া তীব্র আকার ধারণ করায় শীর্ষ গম উৎপাদক এসব অঞ্চলে চার বছর ধরে শস্যটির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গমের মজুদ যেমন কমছে, তেমনি আশঙ্কা বাড়ছে শস্যটির সরবরাহ ও বাণিজ্যও নিয়েও।

এদিকে মজুদের পাশাপাশি গমের বৈশ্বিক সরবরাহ পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে ডব্লিউএএসডিই প্রতিবেদনে। জুলাইয়ে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৪৩ লাখ টন কমিয়ে সরবরাহের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি টন। মূলত চীন, কানাডা ও ইইউভুক্ত দেশগুলোয় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় সরবরাহ পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, জুলাইয়ে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় গমের বৈশ্বিক ব্যবহার ৩৪ লাখ টন কমতে পারে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭৯ কোটি ৬১ লাখ টনে। ইইউতে গৃহস্থালি ও ফিড উৎপাদন এবং চীনে খাদ্য, বীজ ও শিল্প খাতে ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়টি বৈশ্বিক ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে গমের বৈশ্বিক বাণিজ্য পূর্বাভাসও কমিয়েছে ইউএসডিএ। সংস্থাটি জানায়, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে ২০ কোটি ৯৪ লাখ টন গমের বাণিজ্য হতে পারে, যা জুলাইয়ে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। মূলত কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাণিজ্যের পরিমাণ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আবারো গমের দাম বাড়তে শুরু করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মূল্যসূচক অনুযায়ী, জুলাইয়ে দানাদার খাদ্যশস্যের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমলেও গম ও চালের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। ইউক্রেনের রফতানি নিয়ে উদ্বেগ এবং উত্তর আমেরিকায় শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব গমের দাম বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত রফতানি নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় চালের দাম বেড়ে ১৫ বছরের সর্বোচ্চে।