আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে শ্রীলংকার ২৯০ কোটি ডলার বেইল আউট প্যাকেজে সবুজ সংকেত দিয়েছে চীন। এতে ভারত মহাসাগরীয় দেশটির সামনে থেকে সবচেয়ে বড় বাঁধা সরে গেল। খবর রয়টার্স। 

আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে জানান, চলতি মাসের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে ২৯০ কোটি ডলার ঋণ চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে আইএমএফ এমন প্রত্যাশা শ্রীলংকার।

স্বাধীনতা পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে শ্রীলংকা। গত বছর গোতাবায়া রাজাপাকসের প্রস্থানের পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করা রনিল বিক্রমাসিংহের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করা। আজ সংসদে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট জানান, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করলেও বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে প্রয়োজনীয় আমদানি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে আইএমএফের ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ আইএমএফের ঋণ অনুমোদন হলে অন্যান্য ঋণদাতারাও এগিয়ে আসবে। 

তিনি আরো জানান, আইএমএফের ঋণ পেতে প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার একটি নতুন চিঠি পাঠিয়েছে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না। তার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে আইএমএফের কাছে লেটার অব ইনটেন্ট বা আগ্রহপত্র পাঠানো হয়েছে।  

শ্রীলংকার সবচেয়ে বড় ঋণদাতা চীন ও ভারত। আইএমএফের উপাত্তে দেখা গেছে, ২০২০ শেষে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের কাছে শ্রীলংকার ঋণ ছিল ২৮৩ কোটি ডলার। যা দেশটির মোট বিদেশী ঋণের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

চায়না আফ্রিকা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপাত্তে দেখা গেছে, ২০২২ শেষে সব মিলিয়ে চীনা ঋণদাতাদের কাছে শ্রীলংকার ঋণ ৭৪০ কোটি ডলার। যা দেশটির মোট সরকারি ঋণের এক পঞ্চমাংশ।

বিক্রমাসিংহে জানান, ২০২৯ সাল নাগাদ প্রতিবছর গড়ে ৬০০ কোটি ডলার করে ঋণ পরিশোধ করতে হবে শ্রীলংকার। এজন্য আইএমএফের সহায়তা খুবই জরুরি।

কিন্তু কর্মকর্তা পর্যায়ে প্রাথমিক ঐকমত্যের পরও আইএমএফের বেইলআউট প্যাকেজ চূড়ান্তে ১৮৭ দিন বিলম্ভিত হয়েছে।