যুক্তরাষ্ট্রে বড়দিনের ছুটি শুরু হওয়ার আগে তীব্র শীতকালীন ঝড় কোটি মানুষকে তুষারপাতের মধ্যে ফেলে দেয়। প্রবল শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারঝড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এ অবস্থায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের যাত্রা বিঘ্নিত হয়। টিকিট কাটলেও অনেকেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস বলছে, আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) লোকসানে ফেলে দিতে পারে। কেননা অন্য এয়ারলাইনসের তুলনায় সাউথওয়েস্টে অনেক বেশি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। খবর সিএনবিসি।

মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটির নির্বাহীরা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভ্রমণার্থীদের অর্থ পরিশোধ করতে তাদের পক্ষ থেকে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। বিরূপ আবহওয়াজনিত বিশৃঙ্খলা ছুটির সপ্তাহে কয়েক হাজার যাত্রী আটকে রাখে। ফলে তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি।

অন্যদের তুলনায় সাউথওয়েস্ট সাধারণত স্বল্প ব্যয়বহুল এয়ারলাইনস। বেশ কয়েকদিন ধরে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে পরিকল্পিত ফ্লাইটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যাত্রী নিয়ে উড়ছে।

সাউথওয়েস্ট আশা করছে, কয়েকদিনের মধ্যেই তারা স্বাভাবিক সময়সূচি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। সংস্থাটি শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

বৃহম্পতিবার সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী বব জর্ডান বলেন, ‘পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সফল করার জন্য আমাদের কাছে পরীক্ষিত সমাধান রয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী, তবে সতর্ক।’

এয়ারলাইনসটি আবারো নিয়মিত টিকিট বিক্রির কার্যক্রম আবার শুরু করেছে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রবল শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিপর্যয়জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকের মৃত্যু ঘটে। এ সম্পর্কে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যে তুষারঝড় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, সেটির ব্যাপ্তি ছিল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাস থেকে সর্ব উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য মাইন পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে গত সপ্তাহের শেষে বেশির ভাগ এয়ারলাইনস তাদের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করলেও সাউথওয়েস্ট তাতে ব্যর্থ হয়, তাদের কার্যক্রম কেবলই বিঘ্নিত হতে থাকে। এক্ষেত্রে সংস্থাটির নির্বাহীরা প্লাটফর্মসহ অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ সময়সূচি ও ক্রুদের সঙ্গে ফ্লাইট মেলানোর গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।

গত সপ্তাহ শেষে সংস্থাটির নির্বাহীরা অবশ্য পরিস্থিতি উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি উল্লেখ করে যে পুরো কার্যক্রম আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। তবে এ জাতীয় প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে। সংস্থাটির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রায়ান গ্রিন বলেন, ‘চলমান বিষয়টি অবশ্যই চতুর্থ প্রান্তিকে প্রভাব ফেলবে।’

তবে কার্যনির্বাহীরা এয়ারলাইনটির মোট কত খরচ হবে সে সম্পর্কিত অনুমান জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে একটি অনুরূপ ঘটনায় এয়ারলাইনসটির প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ডলার পরিমাণ অর্থ খরচ করে। তবে সম্প্রতিক ঘটনাটি ছিল আরো দীর্ঘস্থায়ী। ছুটির এ সময়টিতে ভাড়া আর যাত্রী সংখ্যাও ছিল বেশি।

কিছুদিন আগে সংস্থাটি ২০১৯ সালের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে ১৭ শতাংশ আয় বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে। তবে সম্প্রতি শুধু ফ্লাইট বাতিলের খরচ নয়, ভোক্তা পরিষেবা সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিছু ভ্রমণকারীর হোটেল ও খাবারের বাইরেও সংস্থাটিকে অন্যান্য খরচ বহন করতে হবে।