বিভিন্ন সংকটে চলতি বছর উৎপাদন খাতে সংকোচনের আশঙ্কা করছে জার্মানির ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। প্রতি ১০ কোম্পানির মধ্যে চারটি থেকেই এসেছে ব্যবসা সংকুচিত করার ইঙ্গিত। সোমবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে এমনটাই জানিয়েছে জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট (আইডব্লিউ)। উৎপাদন সংকোচনের জন্য দায়ী করা হয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা ও ইউক্রেন যুদ্ধকে। খবর রয়টার্স।
আইডব্লিউয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে গ্রীষ্মকালের চেয়ে চলতি বছরের শীত মৌসুমে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমে এসেছে। তুলনামূলকভাবে কমেছে বিদ্যুতের দামও। কিন্তু এটা আশাব্যঞ্জক না। এখনো মূল্যসূচক নাগালের বাইরে থেকে গেছে। উউৎপাদন খাতের এ অবনতি কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন।
এদিকে ২০২৩ সালেই স্পষ্ট হবে আগামী শীতের জন্য গ্যাস ও জ্বালানির সরবরাহের সম্ভাব্য পরিমাণ। শনাক্ত করা যাবে সম্ভাব্য সংকট। আড়াই হাজার জার্মান প্রতিষ্ঠানের ওপর এ জরিপ চালিয়েছে আইডব্লিউ। জরিপে অংশ নেয়া এক-তৃতীয়াংশ কোম্পানির উৎপাদন স্থবির থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপরীতে ব্যবসা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে এক-চতুর্থাংশের পক্ষ থেকে।
ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি। তবে আগামী বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, সংকোচনের এ হার হবে বৃহত্ অর্থনীতির জোট জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটির প্রয়োজনীয় গ্যাসের প্রধান জোগানদাতা ছিল রাশিয়া। ইউক্রেন ইস্যুতে হঠাত্ সরবরাহ থমকে যাওয়ায় নেমে এসেছে অর্থনীতির সব সূচক। ক্ষতিগ্রস্ত খাতের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে নির্মাণ খাত। জরিপের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্ধেকই তাদের উৎপাদন কমিয়ে আনতে যাচ্ছে। মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবসা বাড়ানোর আশা করছে। অন্যদিকে দেশটির শিল্প খাতও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। জরিপের অন্তর্ভুক্ত শিল্প খাতের ৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সংকোচনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।










