জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে ধীরে ধীরে কয়লা আমদানি শুরু করতে যাচ্ছে চীন। এরই মধ্যে রেকর্ড উত্তোলন করে যাওয়া স্থানীয় খনিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে। খবর রয়টার্স।
কভিডের উৎসস্থল নিয়ে বিতর্কে ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানি বন্ধ করে চীন। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে যে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে ফের কয়লা আমদানির সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রফতানিমুখী অর্থনীতির জন্য অস্ট্রেলিয়ার কাঁচামাল বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ভোক্তা চীনের জন্য জরুরি।
গত নভেম্বরে জি২০ সম্মেলনে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার নেতাদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। এটা ছিল উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের ছয় বছরের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ। গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন সরকারের আগমন উভয় পক্ষের বরফ গলাতে ভূমিকা রাখে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি অং গত মাসে বেইজিং সফর করেন এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি ও কক কয়লার দাম বৃদ্ধিতে বেইজিংকে দ্বিমুখী নীতি নিয়ে এগোতে হচ্ছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ফলে জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে যে ধাক্কা লেগেছে তা সামাল দিতে এমন নীতি অনুসরণ করতে হচ্ছে বেইজিংকে।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার ফলে চীনা ইউটিলিটি ও ইস্পাত নির্মাতা কোম্পানিগুলো উন্নতমানের অস্ট্রেলীয় কয়লা পাবে। রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার কাছে বাজার হিস্যা হারানোর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল চীনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কয়লা সরবরাহকারী।
এরই মধ্যে সরকার নিয়ন্ত্রিত তিন ইউটিলিটি ও ইস্পাত নির্মাতাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানির অনুমতি দিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার। এর মধ্যে রয়েছে চায়না এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন যারা অস্ট্রেলিয়ার কয়লার ক্রয়াদেশ দিয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ওই কয়লা চীনের দিকে যাত্রা করতে পারে। সামনের মাসগুলোয় অন্যান্য কোম্পানির জন্যও অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানির সুযোগ উন্মোচনের দাবি তুলেছে অনেকে।
উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, ২০২৩ সালে গত বছরের তুলনায় চীনে কয়লার চাহিদা ২ শতাংশ বাড়বে। কভিড নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-পরবর্তী সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে চীনে। নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে কয়লা উত্তোলন কমাতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় অনেক খনি। শানঝি ও ইনার মঙ্গোলিয়ার কয়লাখনির অনেক কর্মী এবারের শীতে কভিড আক্রান্ত হয়েছেন।
কয়লাস্বল্পতায় ২০২১ সালের শেষের দিকে যেভাবে দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউট হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় বেইজিং। চীনের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। চীনের জাতীয় জ্বালানি প্রশাসন গত ৩০ ডিসেম্বর জানায়, ২০২২ সালে রেকর্ড ৪৪৫ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছে চীন।
২০২০ সালে নিষেধাজ্ঞার আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে তিন কোটি টনেরও বেশি কোক কয়লা ও প্রায় পাঁচ কোটি তাপ কয়লা ক্রয় করেছে চীন। অস্ট্রেলিয়ার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ামুখী হতে হয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী দেশকে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও ইস্পাত উৎপাদনে যে উন্নতমানের কয়লার প্রয়োজন তা সরবরাহ করতে পারছিল না ওই দেশগুলো।










