দেশের স্থলবন্দর এবং শুল্ক স্টেশনসমূহে আমদানিকৃত পণ্যের বিদ্যমান লেবার হ্যান্ডেলিং চার্জ, পণ্য লোড-আনলোড চার্জ, ইকুইপমেন্ট চার্জ প্রভৃতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন আমদানিকারক ও রফতানিকারা। একইসঙ্গে লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ও সড়ক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নসহ বন্দরে ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এফবিসিসিআইর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের ল্যান্ড পোর্ট, বর্ডার ট্রেড, ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রান্সশিপমেন্ট বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায় এসব আহ্বান জানান তারা।
সভায় ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনসমূহে দ্রুত রাজস্ব দেয়া, শুল্কায়ন, পণ্য খালাস এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের জন্য ব্যাংক বুথ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।
এফবিসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দেশে ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে স্থল বন্দর ও শুল্ক স্টেশনসমূহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র ভারত থেকেই আমরা বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলের পণ্য আমদানি করে থাকি। যার সিংহ ভাগই আসে স্থলবন্দর দিয়ে।
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এছাড়াও স্থলবন্দর, শুল্ক স্টেশনসহ আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লিখিত আকারে সুনির্দিষ্ট মতামত ও প্রস্তাবনা আহ্বান করেন।
কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ ও এফবিসিসিআই পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমেদ জানান, সিলেটের তামাবিল ও শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে পাথর, চুনাপাথর, কয়লা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা হয় সিমেন্ট, প্লাস্টিক পণ্য, ফার্নিচার, পাটসহ প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য। বন্দরসমূহে কয়লা ও পাথর আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে লোড-আনলোড চার্জ অনেক বেশি। যা বাস্তবে বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় ১৫ শতাংশ ভ্যাট। যা আমদানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
কমিটির চেয়ারম্যান আহমেদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী বলেন, স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এতে করে পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমবে। ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর পরিচালক, কমিটির কো-চেয়ারম্যান, সদস্যসহ ব্যবসায়ীরা।










