লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্তে ভারতের পাশে ১৪ দিন আটকে থাকার পর সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে আনা হয়েছে ৬২ ট্রাক পাটবীজ। আজ শনিবার ১২শ মেট্রিকটন ওজনের পাটবীজ আদমানি করা হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ডিডি) মাহফুজুল ইসলাম শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য খালাস করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হঠাৎ গত ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। এই কারণে কৃষিজ পণ্যসহ পাটবীজ পণ্য বোঝাই ট্রাক গুলো ওপারে ভারতের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় আটকে ছিল এতদিন। যা শনিবার ৪ এপ্রিল বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে এসব পাটবীজবাহী ট্রাকগুলো প্রবেশ করেছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফরের এক মৌখিক নির্দেশে বুড়িমারী স্থলবন্দর হঠাৎ ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল প্রকার আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্তে ৬২ ট্রাক পাটবীজ নিয়ে ঢুকতে পারেনি। 

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে শনিবার (৪ এপ্রিল) বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিজিবি, উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আমদানি কারক ব্যবসায়ীরাসহ অন্যান্য পক্ষদের সহযোগিতায় ৫৫ ট্রাক ভারতীয় পাটবীজের গাড়ী গ্রহণ করা হয়েছে। পাট চাষ মৌসুমে চাষীদের এই পাটবীজ নিয়ে আর দুশ্চিন্তায় ভুগতে হবে না।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পাবনার হাজী বীজ ভান্ডার, নিউ হাজী বীজ ভান্ডার, নীলফামারীর বিশ্বাস অ্যান্ড ব্রাদার্স, রায় সিড কোম্পানি, চাপাইনবাবগঞ্জের আঁখি সিড ভান্ডার, মীম বীজ ভান্ডার, ঢাকার জামাল সিড কোম্পানি, জেএফ এগ্রো লিমিটেড, কোয়ালিটি সিড কোং, রাসেল সিড কোং, বিকাশ এন্টারপ্রাইজ প্রাইজসহ বিভিন্ন আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান এসব বীজ আমদানি করেছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী তাহাজুল ইসলাম মিঠু বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমদানি করা পাটবীজ গুলো খালাস করা হয়েছে। এখন এসব বীজ দ্রুত সরবরাহ করা হবে। যেন পাটবীজ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কেউ বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে। সেই দিকে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সজাগ থাকতে হবে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সহকারী কমিশনার (এসি) সোমেন কুমার চাকমা বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক আদেশ পেয়ে শনিবার এই স্থলবন্দরের ওপারে ভারতে পাটবীজ নিয়ে কিছু গাড়ী আটকে ছিল। সে গুলোই আজকে রিসিভ করা হয়েছে। যেহেতু পাট বীজ বপনের এটা সময় সেহেতু কৃষকদের স্বার্থেই পাটবীজ গুলো দ্রুত গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের হঠাৎ নির্দেশে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। যাক ১৪ দিন পর হলেও এসব কৃষি পণ্য দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো।’