শ্রমিক সংকট, খরাসহ নানা কারণে কয়েক মাস ধরে দেশে চা উৎপাদন আশানুরূপ ছিল না। তবে মৌসুমের শেষেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সেপ্টেম্বরে ইতিহাসের রেকর্ড চা উৎপাদন করেছে দেশের বাগানগুলো। আগস্টে সিলেট অঞ্চলে লাগাতার শ্রমিক আন্দোলনের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম চা উৎপাদন হয়। তবে সেটি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে পরের মাস সেপ্টেম্বর, এ সময় চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি। এতে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বাগান সম্প্রসারণ, নতুন করে বিনিয়োগ এবং বাগান উন্নয়নে মালিকদের বিভিন্ন পদক্ষেপে চা উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবে আগস্টের ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ধর্মঘট লক্ষ্যমাত্রায় শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল চা বোর্ডকে। পরে সেই সমস্যার সমাধান করে সেপ্টেম্বরের শুরুতে চা উৎপাদন বাড়াতে সচেষ্ট হয় শ্রমিক-মালিকসহ সব পক্ষ। পাশাপাশি ওই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অনুকূল আবহাওয়া, ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত মনিটরিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়ায় দেশের চা শিল্প।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, এ বছর আগস্টে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে উৎপাদন কিছুদিন বন্ধ থাকলেও মজুরি বৃদ্ধিসহ বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই শুরু করা হয়। এছাড়া মৌসুমের শেষে হলেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, চা রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা, নিয়মিত বাগান মনিটরিং, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমকল্যাণ নিশ্চিত করার কারণে এ বছর উৎপাদন অনেক ভালো। সরকারের নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বাগান মালিক, চা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই চা শিল্পের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে রেকর্ড উৎপাদন এ শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। উৎপাদনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের উৎপাদনসহ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। যদিও তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে রেকর্ড চা উৎপাদন হলেও ২০২১ সালের তুলনায় এখনো চা উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছে বাগানগুলো। গত বছরের প্রথম নয় মাসে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার কেজি। আর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে সর্বমোট ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার কেজি। তবে অক্টোবরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৬৭টি বাগান থেকে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।










