দেশের পুঁজিবাজারে গতি বেড়েছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। এ সময় একটি বাদে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ২১৪ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৬৩ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৪০টির, কমেছে ৩৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৩টির।

গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে এ মূলধন ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৮ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৪ হাজার ৫৮৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ৮৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৬৯৫ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৯১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ১ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। আর খাদ্য খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে প্রায় সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ইতিবাচক রিটার্নের দিক থেকে শীর্ষে ছিল সিরামিক, পাট ও ভ্রমণ খাত। এ তিন খাতে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৫ ও ১২ দশমিক ২ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে ছিল শুধু বিবিধ খাত, এ খাতে দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৭ হাজার ৬২৬ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১০ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ১২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮৬টির, কমেছে ৫৮টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির।