অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও আমদানীকৃত দুধের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না কম্বোডিয়ার ডেইরি খামারি ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় দুধের তুলনায় আমদানীকৃত দুধের দাম কম হওয়ায় ভোক্তারা এখন দেশীয় দুধের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় দুধের মান নিয়ে সংশয় থাকায় ব্যবহার কমছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর নমপেন পোস্ট।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুপার মার্কেটগুলোতে পর্যাপ্ত আমদানীকৃত দুধের সরবরাহ এখন দেশীয় উৎপাদকদের জন্য অন্যতম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
কম্বোডিয়ার প্রিয়ে ভিহে প্রদেশভিত্তিক দুগ্ধ কোম্পানি তেকহো সেন রুসি তেরেব মিল্কের বিপণন নির্বাহী কর্মকর্তা মাও সুকুন্থিয়ার মতে, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় দেশীয় দুধের উচ্চমূল্য এবং স্থানীয় দুধের মান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় রয়েছে। যে কারণে আমদানীকৃত দুধের তুলনায় দেশীয় উৎপাদিত দুধের বিক্রি কম। এছাড়া স্থানীয় দুধে কেমিক্যাল না মেশানোর ফলে আমদানীকৃত দুধের চেয়ে দাম বেশি পড়ে যায়, যা কার্যত ক্রেতা কমিয়ে আনতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয় পণ্যের প্রতি বিশ্বাস নেই ভোক্তাদের। এটা শুধু দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে নয়, বরং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের আস্থার সংকট রয়েছে। তার মতে, সুপার মার্কেটগুলোতে পচে যাচ্ছে এমন পণ্য বা ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন পণ্য ছাড় দিয়ে বিক্রি করলেও ক্রেতা মিলছে। কিন্তু স্থানীয় দুধের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
দুগ্ধপণ্যের এ বিপণন কর্মকর্তা আরো জানান, তার কোম্পানির প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ লিটার দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করতে পারছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার।
কম্বোডিয়ার কান্দাল প্রদেশের মার্কিন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত দুগ্ধ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মো মো ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটি তাদের খামার থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০ লিটার থেকে ১ হাজার ৫০০ লিটার দুধ সংগ্রহ করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাজার থেকে ১ হাজার লিটারের মতো দুধ বিক্রি করতে সক্ষম হয়। বাকি দুধ অবিক্রীত থেকে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির সেলস ম্যানেজার ভ্যান রাথা জানান, সম্প্রতি দুধের বিক্রি কিছুটা বাড়লেও প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী এটা সন্তোষজনক না।
তিনি বলেন, স্থানীয় দুধের মান উন্নত এবং দাম কম হওয়ার পরও এটির চাহিদা বাড়ছে না। অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত দুধ বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও এটির প্রতি স্থানীয় ভোক্তাদের আস্থা ফিরছে না। এছাড়া আমদানীকৃত দুধের তুলনায় দেশীয় দুধের মূল্যও খুব বেশি নয়। এর পরও একমাত্র আস্থা সংকটে আমদানীকৃত দুধের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বলে জানান তিনি।
ভ্যান রাথার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার বাজারে দুধের চাহিদা ধীরগতিতে বাড়লেও দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের পরিমাণ অথবা প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ঠিক কী পরিমাণ আমদানি হচ্ছে, সেটির সঠিক কোনো তথ্য জানা নেই।
এদিকে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে মো মো ফার্মের প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ১ ডলার ৮০ সেন্টে। আর তেকহো সেন রুসি তেরেব মিল্কের প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ২ ডলার ৫০









