ফুটওয়্যার পণ্যের নন-চায়না উৎস হিসেবে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সিইও আহসান খান চৌধুরী।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদীর ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মাল্টিলাইন ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ফুটওয়্যার রফতানি শিল্প বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস সেক্টরে যে রকম ভালো করেছে, ফুটওয়্যার খাত থেকেও একইরকম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। পৃথিবীর অনেক বড় দেশ বিভিন্ন পণ্যের জন্য নন-চায়না উৎস খুঁজছে। দেশের ফুটওয়্যার শিল্প চীনের বিকল্প হিসেবে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে পারে।

আহসান খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কাছ থেকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের বন্ড লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, যার ফলে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে আমরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করতে পারি। আমাদের কর্মীবাহিনী রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঢাকার বাইরেও আমাদের এ শিল্প স্থাপন করার। আগামী এক বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গে প্রাণ-আরএফএল তাদের ফুটওয়্যার শিল্প স্থাপন করবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে জুতা রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি রফতানি করে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের নন-লেদার ফুটওয়্যার রফতানি করেছে, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ২৪৪ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এ পাঁচ বছর সময়কালে নন-লেদার ফুটওয়্যার রফতানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২১ সালে নন-লেদার ফুটওয়্যার পণ্য রফতানি শুরু করে আরএফএল। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৪.৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭.২ মিলিয়ন ইউএস ডলার সমমূল্যের নন-লেদার ফুটওয়্যার পণ্য রফতানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৭ দেশে নন-লেদার ফুটওয়্যার রফতানি হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে সুইস ব্র্যান্ড এইচ এন্ড এম, কাপ্পা, আমব্রো, এয়ারনেস ও রেড টেপ।