তবে নাম পরিবর্তন হলেও গ্রাহকসেবা কিংবা নম্বরে কোনো পরিবর্তন আসছে না। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে গতকাল এক অনুষ্ঠানে নতুন এ ব্র্যান্ড উন্মোচন করা হয়। ‘আসল সংযোগ, সবসময় সচল’—এ ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘সার্কেল’ তরুণদের ডিজিটাল জীবনধারা, গেমিং, বিনোদন ও কনটেন্ট তৈরির নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে কাজ করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি যুক্ত করে গ্রাহকদের আরো সাশ্রয়ী, আধুনিক ও গতিশীল সেবা দেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।

এ সময় জানানো হয়, এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহকে পরিণত হবেন। তাদের বিদ্যমান ‘০১৬’ নম্বর, সেবা, প্যাকেজ ও ব্যালান্স আগের মতোই বহাল ও সচল থাকবে। এছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট, লেনদেন ও গ্রাহকের তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

শুরুতে এয়ারটেলের নাম ছিল ‘‌ওয়ারিদ’। বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ১০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিটি। পরে ২০১০ সালে ভারতীয় এয়ারটেল ওয়ারিদের সিংহভাগ শেয়ার কিনে নেয় এবং এর নাম পরিবর্তন করে এয়ারটেল বাংলাদেশ রাখা হয়। ২০১৬ সালে এয়ারটেলকে একীভূত করে নেয় রবি আজিয়াটা পিএলসি। এরপর থেকেই ‘রবি’ ও ‘এয়ারটেল’ নামে দুটি ব্র্যান্ড একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ‘‌১৬ বছর ধরে এয়ারটেল বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সার্কেল সেই যাত্রারই পরবর্তী ধাপ। ব্র্যান্ডের নাম বদলালেও আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু সংযোগ বৃদ্ধি নয়, বরং সেই সম্পর্কগুলোকে আরো অর্থবহ করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, ‘এয়ারটেল ১৬ বছর ধরে একটা প্রজন্মের কাছে আবেগের জায়গা ছিল। আমরা তাদের দেখিয়েছি, কীভাবে যুক্ত থাকতে হয়। এ প্রজন্ম কিন্তু এখন আর সেই যোগাযোগের মধ্যে নেই, প্রজন্ম পরিবর্তন হচ্ছে। সেজন্য সার্কেল আরো বেশি প্রাসঙ্গিক, গতিশীল ও অনুপ্রেরণাদায়ী হবে।’

যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের মানুষের মাঝে আন্তঃসংযোগ ক্রমেই বাড়ছে। মানুষের বদলে যাওয়া এ যোগাযোগের ধরনকে বিবেচনায় রেখেই নতুন ব্র্যান্ডটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি রবির। অনুষ্ঠানে বলা হয়, মানুষকে তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত রেখে অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করাই সার্কেলের লক্ষ্য। পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতা এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান সংযুক্ত জীবনধারার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে ‘সার্কেল’। এতে এয়ারটেলের তারুণ্যকেন্দ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা, পরিবর্তিত সেবা ও ভবিষ্যৎমুখী নানা উদ্যোগ।

এয়ারটেলের গ্রাহকদের সিম পরিবর্তন করতে হবে না জানিয়ে সার্কেলের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডিজিটাল তাহসিনা রাফা বলেন, ‘রবি আজিয়াটার দুটো ব্র্যান্ড বাংলাদেশে। একটা রবি, একটা এয়ারটেল। এয়ারটেল ব্র্যান্ডটা আমাদের তরুণদের জন্য। এ ব্র্যান্ডটাকে আমরা এখন নতুন একটা পরিচয় দিচ্ছি। এটা আজ (গতকাল) থেকে সার্কেল নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে। এতে বাজারের সবচেয়ে ভালো অফারগুলো পাওয়া যাবে।’

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, ‘সংযোগ যাত্রার অনুপ্রেরণা জোগায়’—এ বিশ্বাসকে ভিত্তি করে ‘সার্কেল’ বাংলাদেশের ডিজিটালনির্ভর প্রজন্মের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে নতুন নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে রবি আজিয়াটা। এর মাধ্যমে তরুণদের তাদের নিজস্ব পরিসরের মানুষ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে, সেই পরিসরের অংশ হয়ে উঠতে এবং নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে ব্র্যান্ডটি।