বিশ্ব অর্থনীতি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ছাড়াও উচ্চ সুদহার বিরূপ প্রভাব ফেলছে। দৈনন্দিন জীবনযাপন ও ব্যয় সংকুচিত হলেও বিলাসী গাড়ি ক্রয়ে অতিধনীদের আগ্রহ একটুও কমেনি। গাড়ির চাহিদা থাকায় ল্যাম্বরগিনি, ফেরারি, বেন্টলি থেকে শুরু করে রোলস-রয়েসের মতো কোম্পানির আয়ও ঊর্ধ্বমুখী। খবর সিএনএন।

গত বছর ল্যাম্বরগিনি প্রথমবারের মতো ১০ হাজারের বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে এবং ফেরারির আয় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে নির্দিষ্টসংখ্যক গ্রাহকের কাছে নির্ধারিত মডেলের গাড়ি বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনও সহজ নয়। যে কারণে বিভিন্ন মডেলের গাড়ির ডিজাইন থেকে শুরু করে ইন্টেরিয়র বা ভেতরের অংশ পরিবর্তন করা অতি ধনীদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিজাইনের পাশাপাশি গাড়িটি যেন অন্যদের তুলনায় আলাদা হয়, সেটি এখন ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে। এমনকি অতিধনী ক্রেতাদের জন্য কোম্পানিগুলো খুব কমসংখ্যক গাড়ি তৈরি করছে। সাধারণ হিসেবের বাইরে ল্যাম্বরগিনি, রোলস-রয়েস ও বেন্টলি কাস্টমাইজড গাড়ি বিক্রিতে নতুন রেকর্ড করেছে। এমনকি কিছু গাড়ি কোম্পানির লাক্সারি মডেলের দামের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি।

এক সাক্ষাৎকারে ল্যাম্বরগিনির প্রধান নির্বাহী স্টিফেন উইংকেলম্যান বলেন, ‘বাজার ও গাড়ির ধরন হিসেবে আমাদের কার্যক্রম সীমিত। তাই প্রতিটি গাড়ি থেকে আমরা সর্বোচ্চ আউটপুট পাওয়ার চেষ্টা করি।’

গত বছরের আয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি কাস্টমাইজেশন কার্যক্রমের কারণে ফেরারির আয়ও বেড়েছে। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি ৬৪৬ কোটি ডলার আয় ও ১৩৬ কোটি ডলার মুনাফা অর্জনের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি অতি ধনীদের জন্য নতুন মডেলের এসইউভি বাজারজাত করেছে ফেরারি। এর মাধ্যমে চলতি বছর বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি আয় ঊর্ধ্বমুখী থাকার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে বিলাসী গাড়ির এ কোম্পানি।

ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যানুযায়ী, গত বছর বৈশ্বিকভাবে গাড়ি বিক্রি ৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বিলাসবহুল গাড়ি কোম্পানিগুলোর বিক্রিও বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, ল্যাম্বরগিনির ১০ হাজার ও ফেরারির ১৩ হাজার গাড়ি বিক্রি বড় ধরনের সফলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফেরারির আয় উল্লেখ করে বাণিজ্য বিশ্লেষক জাভিয়র গনজালেজ লাস্ট্রা বলেন, ‘আয়ের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পার্সোনালাইজেশন, কাস্টমাইজেশন উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘ধনী ক্রেতারা বোকা নন। তাই বিলাসবহুল গাড়ি বেশি দামে বিক্রির জন্য তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। এজন্য নতুন কিছু যুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে নতুন উদ্ভাবন, সংযোজন ও কাস্টমাইজেশন থাকতে পারে।’

অটো ইন্ডাস্ট্রি বা গাড়ি শিল্পের জন্য বিক্রির বিভিন্ন দিক নতুন কিছু নয়। ফক্সওয়াগন থেকে শুরু করে ফোর্ডের মতো কোম্পানিগুলো বিভিন্ন ডিজাইন ও সুবিধার গাড়ি বিক্রি করে থাকে। কিন্তু ল্যাম্বরগিনি, রোলস-রয়েস ও বেন্টলির গাড়ি যারা কিনছেন তারা রঙ থেকে শুরু করে গাড়ির ভেতরের ডিজাইনেও পরিবর্তন চাচ্ছেন। আর এসব কোম্পানি সচরাচর কাস্টমাইজ করা গাড়ির দামও প্রকাশ করে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যেসব কারণে অতি ধনীদের মধ্যে আলাদা ডিজাইনের বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়ের চাহিদা বাড়ছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। এছাড়া গাড়িতে ভিন্ন রঙের ব্যবহারও আকর্ষণের অন্যতম মাধ্যম। গত বছরের আর্ট বাসেল মায়ামি বিচ ইভেন্টে ল্যাম্বরগিনি একটি রেভুয়েল্টো সুপারকার উন্মোচন করে। এতে একাধিক রঙের মিশ্রণ দেয়া হয়েছিল। ইভেন্টে উন্মোচনের পর সেটি গ্রাহকের হাতেও তুলে দেয়া হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রোলস-রয়েসের ডিলার হিসেবে কেলিন ডিক্সন দুই বছর আগে পুরস্কার জিতেছিলেন। মূলত কোম্পানিটির রোলস-রয়েস বিস্পোক কাস্টমাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাড়ি বিক্রির কারণে তিনি এ পুরস্কার পান। এগুলো কোম্পানিটির সবচেয়ে বেশি কাস্টমাইজ বা পরিবর্তন হওয়া গাড়ি।