কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে পুনরুদ্ধার হচ্ছে উড়োজাহাজ পরিবহন খাত। এক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোকে সহায়তা করেছে গ্রীষ্মের তুমুল চাহিদা। সাম্প্রতিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ডেল্টা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসসহ মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো ইউরোপের গন্তব্যগুলোয় নতুন নতুন ফ্লাইট যুক্ত করছে। আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ইউরোপ ভ্রমণের অদম্য চাহিদা মেটাতে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে সংস্থাগুলো। খবর রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের ফলে ভ্রমণে আগ্রহীরা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের গন্তব্যগুলোয় যেতে পারবেন। মূলত পর্যটন মৌসুমকে প্রসারিত করতে নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। ডেল্টার প্রধান নির্বাহী এড বাস্তিয়ান রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপ সম্ভবত আমাদের শক্তিশালী অঞ্চল, এমনকি আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়েও শক্তিশালী।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মার্লিন ইনভেস্টরের প্রধান নির্বাহী গুইডো পেট্রেলি বলেন, ইউনাইটেড ও ডেল্টা শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বর্ধিত চাহিদা থেকে আরো বেশি রাজস্ব আয়ের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়া চলতি মাস থেকে ডেল্টা আরো বেশি ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে, যা মহামারীর আগের চেয়েও বেশি। আটলান্টাভিত্তিক উড়োজাহাজ কোম্পানিটি গত মে মাসে শ্রম দিবসের ছুটির পর ইউরোপের গন্তব্যগুলোয় ভ্রমণসূচি কমিয়ে দেয়। কিন্তু চলতি বছর তারা অক্টোবর ও নভেম্বরের সময়সূচিতে অনেক নতুন ফ্লাইট যোগ করেছে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ইউরোপে ফ্লাইট সক্ষমতা ২০১৯ সালের একই সময়ের চেয়ে ২২ শতাংশ বাড়িয়েছে। এতে তারা ট্রান্সআটলান্টিক বাজারে বৃহত্তম মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। মূলত ইউনাইটেডের পদক্ষেপের পর ডেল্টাও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে।
গত ২০ বছরের তুলনায় সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মার্কিন ডলার। ইউরো, ইয়েন ও পাউন্ডের বিপরীতে মুদ্রাটির বিনিময় হার বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এটি আমেরিকানদের ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং বিদেশ ভ্রমণকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী করেছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইউরোপগামী যাত্রীদের থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের আয় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এ আয়ের পরিমাণ সংস্থাটির সামগ্রিক যাত্রী আয়ের ২১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউরোপে ভ্রমণের জন্য যাত্রী চাহিদা অবিশ্বাস্য মাত্রায় বেড়েছে। উড়োজাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতা প্রাক-মহামারী স্তরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের ঊর্ধ্বগতির কারণে জ্বালানি থেকে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব কিছুর ব্যয় বৃদ্ধির সম্মুখীন হচ্ছে। বিপরীতে শক্তিশালী ডলার মার্কিন এয়ারলাইনসগুলোর খরচ কমিয়ে দিয়েছে।
ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট কায়াক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ গন্তব্যের অনুসন্ধান গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে জোরালো চাহিদার কারণে টিকিটের দামও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে ফিরতি গড় ইকোনমি ফ্লাইটের ভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।










