কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে বৈশ্বিক পোর্টস জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ডের। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ সংখ্যা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থিতিশীল থাকার চিত্র তুলে ধরেছে। যদিও আগামী মাসগুলোয় বাণিজ্যিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। খবর আরব নিউজ।
তৃতীয় প্রান্তিকে বন্দর অপারেটর প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে বন্দরগুলোয় ২০ ফুটের ২ কোটি ১ লাখ ইউনিট কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম। শিল্পোৎপাদনের কর্মক্ষমতা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রুরির পূর্বাভাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে আরো একটি শক্তিশালী প্রান্তিক পার করেছি। এটি শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির চেয়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী বাজার ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধির কারণে কনটেইনার সংখ্যা বাড়ার হার ধীর হয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থিতিশীল রয়েছে এবং আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড জানায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে এশিয়া প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় কনটেইনারে পণ্য সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণেই মূলত ডিপি ওয়ার্ল্ডের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে।
জেবেল আলী বন্দর দুবাইয়ের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। এটি দুবাইয়ের বৃহৎ বাণিজ্যিক পোর্টস এবং ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম বলেন, জেবেল আলী বন্দরে আমাদের শক্তিশালী কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের জন্য খুবই উৎসাহজনক।
তৃতীয় প্রান্তিকে জেবেল আলী বন্দরের মাধ্যমে ৩৫ লাখ ইউনিট কনটেইনার বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কনটেইনার সরবরাহ বৃদ্ধির হার ২ শতাংশ বেড়েছে।
এ সময়ে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে কনটেইনার সরবরাহ ৩১ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে। যেখানে এশিয়া প্যাসিফিক এবং ভারতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯২ লাখে পৌঁছেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সামষ্টিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলতি বছরের শুরুর দিকে পণ্যমূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, গ্যাস ও বিভিন্ন ধাতব পদার্থের প্রধান সরবরাহকারী রাশিয়া। এদিকে গম ও ভুট্টার প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে ইউক্রেনের। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এসব পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এরই মধ্যে পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে।










