উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে সেগুলো বদলে ফেলার বিকল্প নেই। এ কারণে নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে অতি অল্প সময়ে অপরিহার্য হয়ে পড়ে যন্ত্রাংশ আমদানি। এর ব্যত্যয় হলেই উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার দীর্ঘদিন গ্রাউন্ডেড রাখতে বাধ্য হয় অপারেটরগুলো, যা বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মতো কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সেবা স্থাপন করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সুপারিশ করেছে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো। সম্প্রতি এনবিআরে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য পাঠানো প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় এ দাবি করেছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
এওএবির প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সেবা রয়েছে। একইভাবে বেসরকারি এভিয়েশন অপারেটরদের জন্য কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সেবা স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জারি করা ‘এএনও (এডব্লিউ) ই ২১’কে স্বীকৃতি দিয়ে ২০ বছর পর্যন্ত পুরনো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ, ৩০ বছর পর্যন্ত পণ্যবাহী উড়োজাহাজ এবং ৩৫ বছর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ আমদানির ব্যাপারে একই নিয়ম প্রযোজ্য-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা বাঞ্ছনীয়। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ, ইঞ্জিন এবং এদের যন্ত্রাংশ-সম্পর্কিত সব বিষয় একই এইচএস কোডের আওতায় আনা যেতে পারে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটে এভিয়েশন জ্বালানি তেলের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স মওকুফ করার প্রস্তাবনা দিয়েছে এওএবি।
এওএবির প্রস্তাবনায় আরো বলা হয়েছে, অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জের ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ রয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে রহিত করতে হবে। এছাড়া চার্টার্ড উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার পরিবহন সেবার ওপর সাকল্যে ৩০ শতাংশ সার্ভিস ডিউটি (এসডি) কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ সেবায় বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট রহিত করারও প্রস্তাব দিয়েছে এওএবি। এছাড়া এয়ারলাইনস ও এভিয়েশন অপারেটরদের ওপর বর্তমানে আরোপিত ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর হার কমিয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের বিভিন্ন জরুরি যন্ত্রাংশ আমদানি করতে গিয়ে অপারেটরদের বিভিন্ন সময় দীর্ঘসূত্রতার কারণে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে, যা এয়ারলাইনসগুলোকে ক্ষতির মুখে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সেবা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি বলেন, চার্টার্ড ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সার্ভিস ডিউটি ও ভ্যাট মিলে ৪৫ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ করতে হয় সেবাগ্রহীতাদের, যা এ খাতের বিকাশে অন্যতম বাধা। এটিও কমিয়ে আনতে একটি প্রস্তাব এনবিআরকে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এওএবি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২১-২৩ মেয়াদের জন্য এওএবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্কয়ার এয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান দায়িত্বে রয়েছেন।









