চলতি বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রধান কারণ আকাশচুম্বী দাম এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে সৃষ্ট নানামুখী প্রতিবন্ধকতা। সম্প্রতি এক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

এর আগে গত জানুয়ারিতে গ্যাসের চাহিদা পূর্বাভাস নিয়ে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আইইএ। এতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা ১ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়। তবে চলতি মাসে এসে চাহিদা পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে পাঁচ হাজার কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি করেছিল তার অর্ধেকে দাঁড়াবে বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ। গত বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়েছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

তথ্য বলছে, এমনিতেই গত বছর থেকে ভয়াবহ সংকটে ছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজার। বিশেষ করে ইউরোপে জ্বালানি পণ্যটির অভাব অঞ্চলটির অর্থনীতির জন্য হুমকি বয়ে আনে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে হামলা চালালে আরো বেশি চাপের মুখে পড়ে জ্বালানি পণ্যের বাজার। দেখা দেয় ভয়ানক অনিশ্চয়তা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে রাশিয়া থেকে। কিন্তু দেশটি ইউক্রেনে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ইইউ ও পশ্চিমা দেশগুলো। রাশিয়ার অর্থ ব্যবস্থার ওপর দেয়া হয়েছে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা। যদিও রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর এখনো কোনো বৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কিন্তু রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দিতে দেশটির ওপর থেকে জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে চায় ইইউ। এ কারণেই জ্বালানি চাহিদা বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎসের শরণাপন্ন হচ্ছে। দ্রুতই নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অঞ্চলটি।

এদিকে গত মাসের শুরুতে ১০টি পয়েন্ট সংবলিত একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করে আইইএ। এতে এক বছরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি হারে রুশ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমিয়ে আনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ইইউ অঞ্চলে এলএনজির চাহিদা আকাশচুম্বী। রাশিয়ার পরিবর্তে অন্যান্য দেশ থেকে এ চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করছে ইইউ। এ কারণে স্পট গ্যাসের দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

২০২১-২২ হিটিং মৌসুমে এশিয়ায় স্পট এলএনজির দাম পাঁচ বছরের তুলনায় চার গুণ বেড়েছে। ইউরোপে স্পট এলএনজির দাম একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে পাঁচ গুণ।

ইউক্রেনে হামলা চালানোর আগেই রাশিয়ার একটি পদক্ষেপের কারণে বাড়তে শুরু করে এলএনজির দাম। ওই সময় ইউরোপের বাজারে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস বিক্রি তীব্রভাবে কমিয়ে আনা হয়। এ কারণে ইউরোপে পণ্যটির মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ নিচে নেমে যায়।

চলতি বছর ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার প্রায় ৬ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এশিয়ায় ব্যবহার ৩ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত বছর এ অঞ্চলে ব্যবহার প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ। গ্যাসের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে তার সরাসরি প্রভাব খুব কমই পড়বে আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়। কারণ এ অঞ্চলের দেশগুলো উত্তোলনের মাধ্যমেই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করবে।