নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা লেগেছে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল শিল্পে। কমতির দিকে রয়েছে দেশটি থেকে পাম অয়েল রফতানি। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানি আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ১২ শতাংশ কমে যেতে পারে—এমনটাই মনে করছে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিডিপি। খবর জাকার্তা পোস্ট ও রয়টার্স।
প্রতিষ্ঠানটির ফান্ড ডিসবারসমেন্ট বিভাগের প্রধান ফজর ওয়াহুদি বলেন, করোনা মহামারীতে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারতসহ কয়েকটি দেশে এখনো লকডাউন চলছে। এ পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। যত দিন যাচ্ছে পণ্যটির রফতানিতে ততই বাধাবিঘ্ন সামনে আসছে।
তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চলতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানি আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ১২ শতাংশ কমে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়া থেকে কী পরিমাণ পাম অয়েল রফতানির প্রাক্কলন করেছে, সেই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
করোনা মহামারীতে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা পাম অয়েল রফতানি খাতকে চাঙ্গা করতে এরই মধ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের জুনে বিনা শুল্কে পাম অয়েল রফতানি করা হবে। এ নিয়ে টানা তিন মাস ধরে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পাম অয়েল রফতানির কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি।
একই সঙ্গে চলতি মাসে পাম অয়েলের রেফারেন্স প্রাইস টনপ্রতি ৫৬৮ ডলার ৯৪ সেন্ট নির্ধারণ করেছে বিশ্বের বৃহৎ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। গত মে মাসে দেশটিতে প্রতি টন পাম অয়েলের রেফারেন্স প্রাইস ছিল ৬৩৫ ডলার ১৫ সেন্ট।
এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, যদি কোনো কারণে চলতি মাসে অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৭৫০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তবে পণ্যটির ওপর রফতানি শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে মহামারীর মধ্যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৭৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে চীন-ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাম অয়েলের আমদানি চাহিদা কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। পণ্যটির দামও কমতির দিকে রয়েছে। এ ধাক্কা সামাল দিতে পারছে না ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি খাত। চাহিদা ও রফতানি না বাড়লে আগামী দিনগুলোয় পাম অয়েলের দাম আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চলতি বছর দেশটি থেকে পাম অয়েল রফতানি আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ১২ শতাংশ কমতে পারে বলে মনে করছে বিপিডিপি।










