যুক্তরাষ্ট্রের পরিষেবা খাতে প্রবৃদ্ধির গতি গত মাসে কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। এ খাতে নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণ কমে নেমেছে নয় মাসের সর্বনিম্নে। তবে প্রবৃদ্ধিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে খাতটি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি গতিশীল থাকবে, এমন প্রত্যাশা এক্ষেত্রে রসদ জোগাচ্ছে। খবর রয়টার্স।
ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, পরিষেবা খাতে গত মাসেও মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। খাতটিতে কর্মী নিয়োগের হারও এ সময় কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে।
আইএসএম জানায়, আগস্টে পরিষেবা বা উৎপাদনবহির্ভূত খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ছিল ৫৪ দশমিক ৫ পয়েন্ট। সেপ্টেম্বরে তা কমে ৫৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমেছে। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে তা প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। সে হিসাবে খাতটি প্রবৃদ্ধির ধারায় থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে তা কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে।
প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হলেও ফেডারেল রিজার্ভ দ্বারা সুদহার বৃদ্ধির কারণে মার্কিন অর্থনীতি স্থিতিশীল। তাই আশা করা হচ্ছে, মুদ্রানীতি আরো কিছু সময়ের জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন করতে পারে। তৃতীয় প্রান্তিকের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত প্রান্তিকে দেখা ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
খুচরা বাণিজ্য, খনি, ইউটিলিটি, নির্মাণ শিল্প ও জনপ্রশাসনসহ ১৩টি শিল্প প্রবৃদ্ধির কথা জানা গেছে। পাঁচটি শিল্প যেখানে প্রবৃদ্ধি কমেছে, তার মধ্যে রয়েছে আবাসন ও খাদ্য সেবা এবং পাইকারি বাণিজ্য। আবাসন ও খাদ্য সেবা খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমছে, তবে সরবরাহের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন। পেশাদার, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিষেবা সরবরাহকারীরা জানান, চতুর্থ প্রান্তিকের পূর্বাভাসের চেয়ে ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগামী ছুটির মৌসুমে ব্যবসা বাড়বে।
জরিপে আরো জানা যায়, পরিষেবা ব্যবসাগুলো উচ্চমূল্যের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রায় ১২টি পরিষেবা শিল্প মূল্যবৃদ্ধির কথা জানায়। অন্যদিকে, পরিবহন ও গুদামজাত, খনি, কৃষি, বনায়ন, মাছ ধরা ও শিকার এবং অর্থ ও বীমা চারটি শিল্পের ব্যবসা কমে আসার তথ্য দিয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি ব্যতীত পার্সোনাল কনজামশন এক্সপেন্ডিচারের (পিসিই) মূল্য সূচকের বার্ষিক বৃদ্ধি দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো আগস্টে ৪ শতাংশের নিচে নেমেছে। ২০২২ সালের মার্চ থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার পলিসি রেট ৫২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে বর্তমান ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ রেঞ্জে উন্নীত করেছে। এছাড়া ঋণ খরচ বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও শ্রমের চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে। পরিষেবা খাতের কর্মসংস্থান ও শ্রম সরবরাহ সমস্যা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
কিছু মিশ্র অর্থনৈতিক সূচক থাকা সত্ত্বেও মার্কিন অর্থনীতি তৃতীয় প্রান্তিকে একটি শক্ত প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গাড়ি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। তার পরও সরবরাহ সীমাবদ্ধতা ও শ্রমবাজারের বৈচিত্র্যময় গতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জগুলো আসন্ন মাসগুলোয় প্রবৃদ্ধির গতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে, এখন সেটা দেখা অপেক্ষায় অর্থনীতিবিদরা।










