প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত ও অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে ‘যৌথ অস্থায়ী নৌ করিডোর’ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে ইরান। খবর রয়টার্স।
তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ বদর আল-বুসাইদির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
আলোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী করিডোর চালু এবং নিরাপদ নৌচলাচল পুনরায় শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত অনেকটা কমে এলেও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে আছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে নৌপথটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি ইরান ৪৫টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহকারীরা ইরানের অবরোধ এড়িয়ে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের যে ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, তা ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে দেশটির সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারেও। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘাত অবসানের নতুন উদ্যোগের খবরের পর টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২ ডলারের বেশি কমে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে আবারো কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে। সংঘাতের সময় এসব মিশন থেকে কর্মী সরিয়ে নেয়া বা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে নিকট ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরো বাড়ার ঝুঁকি কম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কয়েকটি দূতাবাস শুরুতে সীমিত সক্ষমতায় কার্যক্রম চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্র দেশগুলোকে জানিয়েছেন, আপাতত ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই ওয়াশিংটনের। বরং অন্যান্য উপায়ে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব এখনো গভীর। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বড় অংশ ইরান ও লেবাননের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করলেও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়।









