ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হারে পতন অব্যাহত। অস্থিতিশীল রয়ে গিয়েছে জ্বালানির বাজারও। ফলে আমদানিতে আরো বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে জাপানকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতি মাসে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ভেঙে চলেছে। এ নিয়ে আগস্টে টানা ১৩তম মাসের মতো দেশটির রফতানি ও আমদানির ব্যবধান ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও দুর্বল ইয়েনের কারণে গত মাসে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান এ বাণিজ্য ঘাটতি জাপানের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার চিত্র তুলে ধরেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে। গত মাসে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আমদানি ব্যয় ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রফতানি না বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি ইয়েনে (১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলার) উন্নীত হয়েছে। আমদানি ব্যয় বাড়ার গতি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকেও বেশি। এ সময়ে রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি বলেন, কাঁচামালের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকায় আমদানি ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যখন সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা কিছুটা কমার পরও রফতানি শ্লথ রয়ে গিয়েছে। খুব সাধারণ বিষয় হলো, বৈশ্বিক অর্থনীতির আকারে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আমদানি বাড়লে খরচ বাড়বে। এতে আমদানি মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।
গত ছয় মাসে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হারে প্রায় ২০ শতাংশ পতন আমদানি ব্যয়কে আরো বাড়িতে তুলেছে। যখন আগে থেকেই জ্বালানি ও কাঁচামালের কারণে ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জ্বালানি তেল আমদানি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা ও এলএনজি সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে।
অঞ্চল অনুসারে, জাপানের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার চীনে গত মাসে রফতানি বছরওয়ারি হিসাবে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। হাইব্রিড গাড়ির মতো মোটর গাড়ির শক্তিশালী চালান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে রফতানি বাড়াতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে পরিমাণের হিসাবে দেশটিতে রফতানি মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
তাকেশি মিনামি বলেন, ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার দাম দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও রফতানি আশানরূপ বাড়ছে না। যদি বিশ্ব অর্থনীতি সম্প্রসারিত এবং রফতানি না বাড়ে তবে এ পরিস্থিতি করপোরেট মুনাফার জন্য কঠিন হবে।
জাপানের অর্থনীতিতে এপ্রিল-জুন সময়ে টানা তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহের তথ্যে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় কভিডজনিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ফলে ভোক্তা ও ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর রয়ে গিয়েছে। বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি ও মুদ্রানীতি কঠোর করার মতো পরিস্থিতির কারণে দেশটির ভোক্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম দুর্বল রয়েছে।










