রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গম সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। শস্যটির বৈশ্বিক বাজার আবারো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে ফ্রান্স। চলতি মৌসুমে ইউরোপের বাইরে দেশটির রফতানি লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর রয়টার্স।

চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ফ্রান্স গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি গম ইউরোপের বাইরের দেশগুলোয় রফতানি করেছে। চলতি বিপণন মৌসুমে দেশটির রফতানি এক কোটি টনে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ রফতানি পৌঁছতে পারে ৭৫ লাখ টনে। গত মৌসুমের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দেশটি ৩৭ লাখ টন গম রফতানি করেছিল। মৌসুমজুড়ে রফতানি করা হয়েছিল মোট ৭৫ লাখ টন গম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর আগে ফ্রান্স কখনই এত বেশি গম রফতানি করেনি। কারণ সাধারণত ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর চাহিদা পূরণে কৃষ্ণসাগরীয় সরবরাহই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এবার যুদ্ধের প্রভাবে অঞ্চলটি থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রফতানি বাজারে সুবিধা পাচ্ছে ফ্রান্স।

ইইউ ক্রপ অবজারভেটরি জানায়, ২০২২-২৩ মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গম রফতানি করেছে ফ্রান্স। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ টন। ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইইউর মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ সময় ইইউ থেকে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি করেছে মরক্কো। আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ লাখ টন। এছাড়া আলজেরিয়া ২০ লাখ ও মিসর ১৬ লাখ টন আমদানির মাধ্যমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে রফতানি কমে যাওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তাতে ভারসাম্য তৈরি করছে ফ্রান্স। যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত নিম্নমুখী ইউক্রেনের রফতানি। ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশটির বন্দরগুলোয় লজিস্টিকস সংকট চলছে। এতে গতিহীন বাণিজ্যিক প্রবাহ।

২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে ইউক্রেনের গম রফতানি গত মৌসুমের তুলনায় ৫২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ লাখ টনে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চার মাসের জন্য খাদ্যশস্য রফতানিসংক্রান্ত চুক্তি বাড়ানো হলেও রফতানিতে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়নি। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ যাচাই-বাছাই ও ছাড়পত্র প্রদানে কালক্ষেপণ করছে। এজন্য কৃষ্ণসাগরীয় করিডর অতিক্রম করে রফতানি গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে জাহাজগুলোর।

অন্যদিকে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, এ মাসে দেশটির রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়ে ৫০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। কিন্তু এর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা রফতানি প্রাক্কলন কমিয়েছেন।