বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা আগামী বছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাড়বে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে গত সপ্তাহে দুবাইতে অনুষ্ঠিত কপ২৮ চুক্তিতে বিশ্বনেতারা স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও নিকট মেয়াদে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিল সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।
শিল্পপ্রধান দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আইইএ ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলক দেশগুলোর জোট ওপেকের পূর্বাভাসের মধ্যে বড়সড় পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ দুই সংগঠনের মধ্যে জ্বালানি তেলের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ও নতুন করে সরবরাহ বাড়াতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিরোধ চলছে।
মাসিক প্রতিবেদনে সম্প্রতি আইইএ জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ব্যবহার ২০২৪ সালে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে। এর আগের পূর্বাভাস থেকে ব্যবহারের পরিমাণ দৈনিক ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বাড়িয়েছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বিশ্লেষণ করে আইইএ বলছে, ‘দাম কমে যাওয়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়াবে।’
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি জানিয়েছে, চলতি প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জ্বালানি তেলের চাহিদা পূর্বাভাস চার লাখ ব্যারেল কমে দৈনিক ১৯ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক মন্থরতার কারণে এ সময় ব্যবহার কমায় পূর্বাভাস সংশোধন করেছে সংস্থাটি। এজন্য বড় অংশে দায়ী ইউরোপ, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য। আইইএ বলছে, ‘উচ্চ সুদহারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
এদিকে গত ৩০ নভেম্বরের বৈঠকে ওপেক প্লাস আরেক দফায় ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম গত সপ্তাহে ছয় মাসের সর্বনিম্ন ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারে নেমেছে। আইইএ জানিয়েছে, ওপেক প্লাস আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সরবরাহ কমানোয় দাম সামান্য বাড়তে পারে।
তবে ২০২৪ সালে চাহিদা বাড়বে আইইএর এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। দুই মাস ধরে টানা নিম্নমুখিতার পর সাপ্তাহিক গড় দাম ঊর্ধ্বমুখী। আইসিই ফিউচারসে শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলার ৫৫ সেন্টে। একই সময়ে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলার ৪৩ সেন্টে।
আইইএর প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের বার্ষিক চাহিদা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৯০ হাজার ব্যারেল কমিয়ে দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেলে সংশোধন করা হয়েছে। এ বছরের চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে ৮০ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে চীন।
আইইএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাস জোটের বাইরে থাকা দেশগুলো থেকে ২০২৪ সালে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন হতে পারে। তবে এ সংখ্যা চলতি বছরের দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল থেকে কম। মূলত যুক্তরাষ্ট্র উত্তোলন বাড়ানোয় ২০২৩ সালে ওপেক প্লাস জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর গড় জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ওপেক প্লাস জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর উত্তোলন হার কম থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় বেশি হবে বলে মনে করছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি।
আইইএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ওপেক জোট ২ কোটি ৮১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি ও ওপেকের পূর্বাভাসের মধ্যে তফাত রয়েছে। মাসিক প্রতিবেদনে ওপেক ২০২৩ সালের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূর্বাভাস দৈনিক ২৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে রেখেছে।
ওপেক মনে করছে, আগামী বছর জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা কিছুটা কমে আসতে পারে। ২০২৪ সালে চাহিদার পরিমাণ নামতে পারে দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। নভেম্বরেও একই পূর্বাভাস দিয়েছিল জোটটি।
অর্থনৈতিক অবস্থা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় সময়ই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পূর্বাভাস সংশোধন করতে হয়। যেমন চলতি বছর চীনের করোনাভাইরাস লকডাউন প্রত্যাহার ও বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার বৃদ্ধি পূর্বাভাস সংশোধনের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।










