সরবরাহ
বাড়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে
দিনাজপুরের হিলিতে শুকনা মরিচের দাম কমেছে কেজিতে ৫০ টাকা। এক
সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩৫০
টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে শুকনা মরিচ কিনতে আসা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যেরই দাম বাড়তি। প্রতিদিনই কোনো না পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষকে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন সময়ে শুকনা মরিচের দাম কমায় কিছুটা হলেও আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে। শুকনা মরিচের দাম যেন স্বাভাবিক অবস্থায় আসে, সে দাবি জানাচ্ছি আমরা।’
নাজমা বেগম নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, ‘শুকনা মরিচের বাড়তি দামের কারণে বাধ্য হয়ে ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিলাম। যেখানে ২৫০ গ্রাম লাগত, সেখানে ১০০ গ্রাম কিনতাম। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে শুকনা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে কেজিতে ৫০ টাকা কমে দাম হয়েছে ৩৫০ টাকা।’
হিলি বাজারের শুকনা মরিচ বিক্রেতা শাকিল খান জানান, বৈরী আবহাওয়ায় কাঁচামরিচের উৎপাদন কমায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এ কারণে কিছুদিন আগে কাঁচামরিচের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। কৃষকরা বাজারে কাঁচামরিচের ভালো দাম পাওয়ায় খেত থেকে তুলেই বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। অতিরিক্ত লাভের জন্য তারা কাঁচামরিচ শুকিয়ে শুকনা মরিচ তৈরি করা প্রায় বন্ধ করে দেন। এতে শুকনা মরিচের সরবরাহ কমে যায়। সে সময় মোকামেই শুকনা মরিচের দাম বাড়তি হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে কাঁচামরিচ উঠতে শুরু করেছে। ফলে বাজারে পণ্যটির সরবরাহও বেড়েছে। এতে দাম কমেছে। আবারো কৃষকরা কাঁচামরিচ শুকিয়ে শুকনা মরিচ তৈরির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। সেই সঙ্গে ভারত থেকেও শুকনা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। যার কারণে বাজারে আগের তুলনায় শুকনা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য মূলত দাম কমতে শুরু করেছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বাজার মনিটর করা হচ্ছে। যদি কেউ কোনো পণ্যের অহেতুক দাম বাড়ায় এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়, তাহলে আর্থিক জরিমানাসহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’









