ছোট পরিবার, একা থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ও তরুণদের ব্যস্ত জীবনযাত্রা—সব মিলিয়ে বার্গারের চাহিদা বাড়ছে দেশটিতে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন ধরনের রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড ব্র্যান্ড। কফি চেইন থেকে শুরু করে হটপটের ব্যবসাও এখন বার্গারের বাজারে প্রবেশ করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় রয়টার্স।
বার্গার মূলত জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। খাবারটি বিশ্বজুড়েই বিপুল জনপ্রিয়। চীনের বার্গারের বাজারে এতদিন প্রধানত ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি ও বার্গার কিংয়ের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের আধিপত্য ছিল। এখন সেখানে নতুন প্রতিযোগী যুক্ত হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠানই বাজারটির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাইছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের বৃহৎ রেস্তোরাঁ কোম্পানি ইয়াম চায়নার পিৎজা হাটও বার্গারের দিকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি পিৎজা হাটে বিদ্যমান রেস্তোরাঁর পাশাপাশি আলাদা বার্গার কাউন্টার চালু করেছে। ‘পিৎজা হাট বার্গার বার’ নামে এ ফরম্যাট ছয় মাসের মধ্যে ২০০টির বেশি শাখায় ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এ ধরনের আউটলেটের সংখ্যা ৫০০-৬০০-তে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি হবে পিৎজা হাটের মোট স্টোরের প্রায় ১০ শতাংশ।
ব্যবসায়ীরা জানান, চীনে ভোক্তাদের ব্যয়ের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মানুষ এখন খরচের বিষয়ে সতর্ক। একই সঙ্গে ছোট পরিবার ও একা বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কম দামে দ্রুত খাওয়া যায় এমন খাবারের চাহিদা বাড়ছে। বার্গার এ চাহিদা পূরণ করছে।
চীনের খাদ্যশিল্প বিশ্লেষক ঝু দানপেং বলেন, ‘ভোক্তাদের জন্য বার্গার অর্থের ভালো মূল্য দেয়। পূর্ণাঙ্গ রেস্তোরাঁয় কয়েকটি পদ অর্ডার করার তুলনায় একটি বার্গার দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে একটি পরিপূর্ণ খাবার পাওয়া যায়।’
পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে পিৎজা হাট ২০২৪ সালে মেনুতে বার্গার যুক্ত করে। ২০২৫ সালে পিৎজা হাটের মোট বিক্রির মাঝারি একক অংকের শতাংশ ছিল বার্গার থেকে। চলতি বছর এ বিভাগ থেকে ১০০ কোটি ইউয়ানের বেশি বিক্রির আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বার্গারের চাহিদা বাড়ছে টেকঅ্যাওয়ে ও ডেলিভারিতেও। ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, চীনে ৪৩ শতাংশ ভোক্তা সপ্তাহে অন্তত একবার খাবার ডেলিভারি নেন। বৈশ্বিক গড় সেখানে ২৩ শতাংশ। —ছবি ফাইভ গাইজ









