বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে নির্মিত ঈগল আকৃতির জাঁকজমকপূর্ণ ও আলোকসজ্জিত ‘গারুদা প্যালেস’ দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছেন। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও শহরটিকে কেন্দ্র করে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোতো নুসানতারায় দেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালন করার পর দুই বছর পার হয়ে গেছে। ৬ হাজার ৬০০ হেক্টরের এ বিশাল প্রশাসনিক এলাকায় বেশকিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের পাশাপাশি সরকারি অফিস, চাকরিজীবীদের জন্য আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয় ও হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। তবে এসব ভবনের বেশির ভাগই এখনো ফাঁকা পড়ে আছে।

পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের নতুন এ শহর পর্যটকদের টানলেও সার্বিক নির্মাণকাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। নতুন প্রেসিডেন্ট প্রবোবো সুবিয়ান্তোর এ প্রকল্পের প্রতি তুলনামূলক কম আগ্রহ থাকায় বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট প্রবোবো ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে রাজধানী জাকার্তার মেরদেকা প্যালেসেই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছেন। এ বছরও তিনি সেখানেই স্বাধীনতা দিবসের মূল কার্যক্রম আয়োজনের ঘোষণা দেন। নতুন রাজধানী নুসানতারায় তাকে খুব কম সময়ই যেতে দেখা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত ১০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর এখানে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে বসবাস করছেন মাত্র এক হাজারের মতো। নুসানতারা ক্যাপিটাল অথরিটির প্রধান বাসুকি হাদিমুলজোনো জানান, ২০২৮ সালের মধ্যে সরকারি কার্যক্রম পুরোপুরি নুসানতারায় স্থানান্তরের লক্ষ্য থাকলেও বাজেটের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালে এ প্রকল্পের জন্য বাজেট ছিল ৪৩ ট্রিলিয়ন রুপি, যা ২০২৫ সালে কমিয়ে মাত্র ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন রুপিতে নামিয়ে আনা হয়। চলতি বছর নুসানতারার জন্য ৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন রুপি বাজেট ধরা হলেও কর্তৃপক্ষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আরো অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে।

নুসানতারা গড়ে তুলতে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার (৪৬৬ ট্রিলিয়ন রুপি)। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ খরচের ঘোষণা দিয়েছিল, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি অর্থ বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে জোগাড় করার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রায় ২০৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন রুপির বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এলেও তার বড় অংশই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয় কিছু বড় প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশী কোম্পানির বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে অবকাঠামোগত কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি এরউইন আকসা জানান, নুসানতারার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা থাকলেও বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করছেন না। তারা অবকাঠামোর বাস্তবায়ন এবং আর্থিক নিশ্চয়তা দেখতে চান। —খবর ও ছবি নিক্কেই এশিয়া