বিদায়ী বছরের শেষ মাসে রাশিয়ার জন্য ইউরোপে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল দেশটির ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এ সময় বিকল্প বাজার হিসেবে চীন ও ভারতে আর্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তোলিত তেল সরবরাহ আরো বাড়িয়েছে রাশিয়া। এক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে ব্যাপক মূল্যছাড়। খবর রয়টার্স।
আর্কটিক গ্রেডের আরকো, আরকো/নভি, পোর্ট ও ভারানডি ক্রুড (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) সাধারণত চীন ও ভারতে সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু গত মাসে এ গ্রেডের জন্য নতুন গন্তব্য ঠিক করে রাশিয়া। ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জি-৭ ও অস্ট্রেলিয়া রুশ জ্বালানি তেলের ওপর প্রাইস ক্যাপ আরোপ করলে এমন সিদ্ধান্ত নেয় মস্কো। পাশাপাশি যেসব দেশ প্রাইস ক্যাপ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, সেগুলোয় সরবরাহ বন্ধ করে দিতে ডিক্রি জারি করেছে পুতিন সরকার।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জানায়, মূলত আর্কটিক অঞ্চলের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ইউরোপীয় ইউনিয়নে সরবরাহ করত রাশিয়া। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন বিকল্প বাজার খুঁজে নিতে হচ্ছে গ্রেডটিকে।
গত বছরের মে মাসে ইউরোপ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ভারতে আর্কটিক গ্রেডের জ্বালানি তেল সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের দেয়া তথ্যানুযায়ী, নভেম্বরে রেকর্ড ৬৬ লাখ ৭০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ৪১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ভারতে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল আরকো বা আরকো/নেভি পোর্ট গ্রেড। দুটি সূত্রের বরাতে ও রেফিনিটিভ ডাটার তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে ভারত প্রথম ভারানডি ক্রুড কার্গো আমদানি করে। এটি মুরমানস্কে লোড করা হয়েছিল।
রেফিনিটিভের দেয়া তথ্য বলছে, মুরমানস্ক বন্দরে অন্তত তিনটি ট্যাংকারে আর্কটিক গ্রেডের তেল বোঝাই করা করা হয়েছে। এসব তেল চীনের বাজারে সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে নিকোলাই জুয়েভ নামের একটি ৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বহন করছে। ট্যাংকারটি ১৮ জানুয়ারির মধ্যে চীনের বন্দরে ভিড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্য দুটি ট্যাংকার এনএস ব্রাভো ও গ্লাডিয়েটর নয় লাখ ব্যারেল করে আর্কটিক গ্রেডের জ্বালানি তেল বহন করছে। ৩-১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব তেল চীনের কুইংডাও শহরে পৌঁছবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রেফিনিটিভের তথ্যমতে, এসব ট্যাংকার আরকো ক্রুড বহন করছে। যদিও চীনের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ভারানডি ক্রুড আমদানিরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিশোধন কেন্দ্র এটি কিনবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ মে রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। ৫ ডিসেম্বর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তখন বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, এর মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে অঞ্চলটিতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তার বেশির ভাগই আসছে জ্বালানি তেল রফতানি আয় থেকে। এ আয় কমিয়ে আনার পাশাপাশি রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এদিকে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। আগামী মাসে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।










