উৎপাদন হ্রাসের জেরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রেখেছে। এদিকে দেশী পেঁয়াজ সরবরাহ কম থাকায় কয়েক মাস টানা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে পণ্যটির বাজার। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে। বাজারে দেশী নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে চীন, মিসর, তুরস্কসহ অন্যান্য দেশ থেকে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে। এতে সরবরাহ সংকট দূর হয়ে কমতে শুরু করেছে দাম। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বর্তমানে সব ধরনের পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দেশী নতুন পেঁয়াজ সরবরাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে পাতাসহ পেঁয়াজ ও চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ফলে পণ্যটির দাম নিম্নমুখী রয়েছে। হিলিতে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ জাতের পেঁয়াজ ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে প্রতি কেজি পাতাসহ দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ৮০ টাকা। আমদানি করা চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০-৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এ জাতের পেঁয়াজের কেজি ছিল ১০০ টাকা।

এদিকে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মোকছেদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে পেঁয়াজের দাম এবার রেকর্ড বেড়েছে। এর আগে কখনো এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে ২৫০ টাকা খরচ করিনি। বর্তমানে দাম কমায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুল আলম জানান, ভারত হঠাৎ রফতানি বন্ধ করায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে দেশী পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারিভাবে পেঁয়াজ বিক্রিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি শুরু হলেও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। তবে সম্প্রতি পাবনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন পেঁয়াজ আসায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামও কিছুটা কমেছে।