পেটেন্ট ক্লিফ ইস্যুতে হুমকির মুখে পড়েছে ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব, মেরেক ও জনসন অ্যান্ড জনসনের মতো বৃহৎ ওষুধ কোম্পানি। ২০৩০ সালের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় কমার ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে এ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সময়ের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কিছু ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে আসবে। খবর সিএনবিসি।

এক বা একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের পণ্যের জন্য কোনো সংস্থার পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হলে পেটেন্ট ক্লিফ পরিস্থিতির তৈরি হয়। তখন একই পণ্য নিয়ে অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়তে হয়। মূলত নির্দিষ্ট ফার্মার বিকল্প তৈরি হওয়ায় বাজারে কম দামে ওষুধ বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। এটি একই সঙ্গে উৎপাদকের আয় ও রোগীদের ব্যয় কমিয়ে দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওষুধ সরবরাহে নতুন ব্যবস্থাপনা এবং অন্য কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব স্থাপনের মাধ্যমে কিছু উৎপাদক প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট ক্লিফের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পেটেন্ট ক্লিফ ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির জন্য অনিবার্য একটি সমস্যা। এটি তাদের শীর্ষ বিক্রীত ব্র্যান্ডকে নতুন ওষুধ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে বাধ্য করে। তাই পণ্যের ওপর একচেটিয়া অধিকার হারানো কোম্পানিকে নানাভাবে প্রভাবিত করে।

এর অন্য বিপদও রয়েছে। সম্প্রতি পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকা কিছু ওষুধ জো বাইডেন প্রশাসনের মেডিকেয়ার নীতির বিষয় হয়ে উঠছে। যেখানে আলোচনায় থাকছে ওষুধের মূল্য। এ নীতি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ সংস্থার আয়কে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে শীর্ষ ২০টি ফার্মা ১৮ হাজার কোটি ডলারের বিক্রয় ঝুঁকিতে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ কিছু পণ্যের কথা বলা যায়। মেরেকের কিট্রুডা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ওষুধ। এর পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে। ২০২২ সালে কিট্রুডার বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৪ কোটি ডলার। সামগ্রিক বিক্রির ওপর ওই বছর সংস্থাটি পেয়েছে ৩৬ শতাংশ হিস্যা। কিন্তু ২০৩০ সালে বিক্রি দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪৯০ কোটি। 

অন্যদিকে ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইবের এলিকুইস সাধারণত স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সেবন করা হয়। এ ওষুধের পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬-২৮ সালে। ২০২২ সালে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি ডলার। এতে ব্রিস্টল মায়ার্সের হিস্যার পরিমাণ ২৫ শতাংশের মতো। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩২ সালে বিক্রি হবে ৪৭ কোটি ৮০ ডলারের ওষুধ। জনসন অ্যান্ড জনসনের ব্যথা নিরোধক স্টেলারার পেটেন্ট মেয়াদ ইউরোপে ২০২৪ সালে ও যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বছর শেষ হবে। ২০২২ সালে এ ওষুধ বিক্রি হয় ১ হাজার ৮৬ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জনসন অ্যান্ড জনসনের হিস্যা ছিল ১২ শতাংশ। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৮ সালে বিক্রি কমে আসবে ২৬৩ কোটি ডলারে।

এ বিষয়ে মার্কিন আর্থিক পরিষেবাবিষয়ক গবেষণা সংস্থা উইলিয়াম ব্লেয়ার অ্যান্ড কোম্পানির বিশ্লেষক ম্যাট ফিপস বলেন, ‘‌পেটেন্ট ক্লিফের প্রভাব কোম্পানিভেদে ভিন্ন হবে। মেয়াদ ফুরানোর সময়ও ভিন্ন। এতে বহুল ব্যবহৃত ২৫-৩০টি পণ্য রয়েছে, যা বড় ওষুধ উৎপাদকদের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।’

পেটেন্টের ক্ষেত্রে ওষুধের ধরন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধটির উপাদানগত গড়নের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে পেটেন্ট ক্লিফ।