যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেট ব্যবসায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে আসন্ন কাতার বিশ্বকাপ। এটি বড়দিনের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তৈরি করেছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। কাতার বিশ্বকাপ চলবে ২০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সময়টি মূলত বড়দিনের কেনাকাটা ও লেনদেনের মধ্যে পড়ে। বড়দিন ঘিরে ব্রিটেনে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক খাতগুলো সাধারণত এ সময় বার্ষিক লাভের একটি বড় অংশ উঠিয়ে নেয়।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মের সময় যখন বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, তখন ব্রিটিশ সুপারমার্কেটগুলো অনেক বেশি লাভ উঠিয়ে নিতে সক্ষম হয়। কারণ দেখা যায়, ক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের পানীয় ক্রয়ের পাশাপাশি খেলা উদযাপন করতে বারবিকিউ জাতীয় খাবারের দিকে ঝোঁকে। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস মজুদ ও বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করে। স্বাভাবিকভাবেই যা সুপারশপগুলোর বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
তবে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের মধ্যে ব্রিটেনের চলমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাদের আস্থা এখন অনেকটাই নিচুতে। তাছাড়া উচ্চমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করায় ঋণের খরচও বেড়ে গিয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে জটিল করেছে।
রিটেইল এক্সিকিউটিভরা বলছেন, কাতারে গ্রীষ্মের তীব্রতা এড়াতে শীতকালে চলে আসা বিশ্বকাপের সময়সূচি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলছে। কেননা কাতারের বিশ্বকাপের পর ব্রিটিশরা স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত থাকবে। বড়দিনের উৎসব আমেজে ভাটা পড়বে, তারা উৎসাহ বোধ করবে না। টুর্নামেন্টের পরে বড়দিন উপলক্ষে নতুন ব্যয়েও ততটা আগ্রহী হবে না। ফলে বড়দিন ঘিরে শেষ সপ্তাহে কেনাকাটার যে হিড়িক পড়ে, এবার তা ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা টেসকোর প্রধান নির্বাহী কেন মারফি সাংবাদিকদের বলেন, আপনি কীভাবে একই সময়ে ক্রিসমাস ও বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করেন!
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সুপারমার্কেটগুলো মূলত দুই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বকাপ ঘিরে তাদের দ্বিতীয় পরিকল্পনাও রয়েছে। ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড কিংবা স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলো যদি দ্রুত দেশে ফিরে আসে, তবে পানীয় ও স্ন্যাকসজাতীয় পণ্যদ্রব্য রাখার জায়গাগুলোয় সুপারশপগুলো দ্রুত বড়দিনের উপহার ও সজ্জা দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে।
এদিকে বাজার নির্বাহীরা বলছেন, ১ অক্টোবর ইংল্যান্ডে কার্যকর হওয়া আইন তাদের ব্যবসায়ের পরিকল্পনাকে আরো জটিল করে তুলেছে। লন্ডনভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ ও পরামর্শক সংস্থা কান্তার গবেষণা তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের জুলাই বিশ্বকাপের সময় ক্রেতারা ব্রিটিশ সুপারমার্কেটে অতিরিক্ত ১ কোটি ৩০ লাখ বার পরিদর্শন করেছিলেন। ইংল্যান্ড যখন কলম্বিয়া ও সুইডেনকে পরাজিত করেছিল, ক্রেতারা তখন অ্যালকোহল ক্রয়ে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড বেশি ব্যয় করেছিল।










