রেকর্ড মুদ্রা সংকটে ভুগছে আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিসর। দেশটিতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি এখন সর্বোচ্চ। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে দেশটির জন্য। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, এখন মানুষকে মুরগির মাংসের বদলে মুরগির পা খেতে উৎসাহিত করছে সরকার।

দেশটিতে খাদ্য তালিকার ওপরের স্তরে রয়েছে মুরগিজাতীয় প্রাণীর মাংস। এখন অর্থনৈতিক সংকটে অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি মুরগির মতো সাধারণ খাদ্যও যোগাতে পারছেন না অনেকে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে সিএনএন জানাচ্ছে, গত সোমবার পর্যন্ত প্রতি কেজি পোল্ট্রি মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে ৭০ মিশরীয় পাউন্ড। ২০২১ সালে এ দাম ছিল ৩০ মিশরীয় পাউন্ড। এমন পরিস্থিতিতেই দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর নিউট্রিশন মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজনে মুরগির পা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অবশ্য প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটাতে তারা মুরগি ছাড়া অন্যান্য গবাদি পশুর পাও খাদ্য তালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এ ধরনের খাদ্য চরম দারিদ্র্যে আক্রান্ত দেশগুলোর খাদ্যতালিকায় থাকে। তাই আসন্ন অর্থনৈতিক দুরাবস্থার শঙ্কায় সাধারণ মানুষ এ পরামর্শে খুশি হতে পারছে না। মূলত মিসরে এ ধরনের খাবারকে উচ্ছিষ্ট বলেই বিবেচনা করা হতো।

দেশটির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, মিসর এরই মধ্যে ‘‌মুরগির পায়ের যুগে’ ঢুকে পড়েছে। এমনকি সরকারি এ ঘোষণার পর মুরগির উচ্ছিষ্ট পায়ের দামও বেড়ে ২০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।

কর্তৃপক্ষের হিসাব দেখিয়ে সিএনএন বলছে, দেশটির লোকসংখ্যার ৩০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আর বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালে দেশটির ৬০ শতাংশেরও বেশি লোক হয় দরিদ্র না হয় দ্রারিদ্র্যের ঝুঁকিতে।