চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। এলসি জটিলতায় ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে পারছেন না। এছাড়া ভারতে মসলা পণ্যটির সরবরাহ কমে যাওয়াকেও এক্ষেত্রে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের তথ্য বলছে, জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ টন কম শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে। তবে চলতি মাস থেকে আমদানি বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
এদিকে বাজারে দেশীয় শুকনা মরিচের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আড়তদার ও পাইকাররা জানান, গত মাসের তুলনায় প্রতি কেজি অন্তত ৪০-৪৫ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখা বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে ১৩ হাজার ৬৪০ টন। যার মূল্য ৩৪২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পণ্যটি আমদানি বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৪২ টন। যার মূল্য ছিল ২০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। যেখান থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছর পণ্যটির আমদানি কমেছে ১ হাজার ২০২ টন।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, মসলাজাত পণ্য হিসেবে শুকনা মরিচ আমদানিতে সরকারের বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ছয় মাসে ৩৪ কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব আয় হয়েছে শুকনো মরিচ আমদানিতে।
মসলাজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানিয়েছেন, এলসি জটিলতার পাশাপাশি ভারতে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে তার প্রতিষ্ঠান গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তুলনামূলক কম শুকনা মরিচ আমদানি করেছে। তবে দুই সপ্তাহ ধরে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে। এখন সপ্তাহে ৭০-৭৫ ট্রাক আমদানি হচ্ছে, যা ১৫ দিন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাছাড়া ভারতে শুকনা মরিচের দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় আমদানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমান ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানীকৃত শুকনা মরিচ ৩৫০-৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল ৪০০ টাকার বেশি।
সাতক্ষীরা জেলা শহরের মসলা বিপণন প্রতিষ্ঠান সুলতানপুর বড়বাজারের সাহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সমরেশ সাহা জানিয়েছেন, শুকনা মরিচের দাম কিছুটা কমতির দিকে। এক মাসের ব্যবধানে ৪৫০-৪৬০ টাকা দামের শুকনা মরিচ এখন ৪১০-৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আরো কমবে বলে আশা করছেন তিনি।










