ভারতে বর্তমানে চলছে উৎসবের মৌসুম। উৎসবের আমজকে ঘিরে দেশটির ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের ওপর আকর্ষণীয় মূল্যছাড় দিচ্ছেন। ফলে বেড়ে গিয়েছে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল পোস্ট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ভারতে গুড়ি পাদওয়া নামে একটি উৎসব পালিত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এটি উগাড়ি নামেও পরিচিত। উৎসবকে ঘিরে স্বর্ণ বেচাকেনা ব্যাপক হারে বেড়েছে। আসন্ন মাসগুলোয় আরো কয়েকটি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ফলে চাহিদা ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। তবে চাহিদা বাড়লেও মূল্যছাড়েই স্বর্ণ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম এক মাসের সর্বনিম্নে নেমে যায়।
তবে ভারতে বাড়লেও বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীনে সীমিত মূল্যবান ধাতুটির কেনাবেচা। কারণ কভিড-১৯ ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটি কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ভারতীয় আঞ্চলিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামসুন্দরাম পিআর বলেন, চলতি উৎসব মৌসুমে খুচরা বাজারে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে স্বর্ণের চাহিদা। যদিও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজার পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। রিদ্দিসিদ্ধি বুলিয়নসের পরিচালক মুকেশ কোঠারি বলেন, বর্তমানে স্বর্ণালংকারের চাহিদায় কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দিয়েছে। তবে ভালো পরিমাণ মূল্যছাড়ে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। ডিলাররা প্রতি আউন্সে ৩৫ ডলার করে মূল্যছাড় দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে স্বর্ণ আমদানিতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে ভারত। এ সময় দেশটি ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি স্বর্ণ কিনেছে। মূল্যবান ধাতুটির দাম কমায় পাইকারি ক্রেতারা সুবিধা পেয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রথম যখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আঘাত হানে, তখন ভারতে বিয়ে ও উৎসবের আয়োজন কমে যায়। কিন্তু ২০২১ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠায় আবারো উদযাপনের আমেজ ফিরে আসে। বাড়তে থাকে স্বর্ণের চাহিদা।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ। বিদায়ী বছর দেশটি সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫০ টন স্বর্ণ আমদানি করে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২০ সালের তুলনায় এ সময় ৪৩০ টন বেশি স্বর্ণ আমদানি করা হয়।
তথ্য বলছে, ২০২০ সালে ভারত ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ আমদানি করে। গত বছর আমদানিতে ব্যয় হয় ৫ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। এর আগে ২০১১ সালে স্বর্ণ আমদানিতে রেকর্ড অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩৯ কোটি ডলার। দেশটির স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে পড়ে।










