এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির ভিজিঞ্জম মেগা পোর্টের নির্মাণকাজ আটকে দিয়েছে স্থানীয়রা। কেরালায় উপকলূবর্তী জেলে সম্প্রদায়ের বিরোধিতায় অতিকায় এ বন্দর নির্মাণ থমকে গেছে। খবর রয়টার্স
বন্দরটিতে গত আগস্ট থেকেই ১২০০ বর্গফুটের লোহার ছাদবিশিষ্ট একটি কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। এটিই হতে চলেছে ভারতের প্রথম কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট। ৯০ কোটি ডলারের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভজনক শিপিং বাণিজ্যে প্রবেশের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ছিল আদানির। প্রাচ্যের শিল্পোৎপাদক ও পশ্চিমের ভোক্তা বাজারের মধ্যে মেলবন্ধনের সেতু হিসেবে ব্যবহৃত হবে এ বন্দর-এমনটাই আশা ছিল আদানি পরিবারের।কিন্তু এতে বাগড়া বসান স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়।
বিক্ষোভকারীরা তাবু টাঙ্গিয়ে মেগা প্রকল্পটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় একশোর মতো প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা হয়েছে সেখানে। অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘট পালন করবেন বলে জানান মূলত খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী এ জেলে সম্প্রদায়। রাস্তার অপর পাশেই মেগা বন্দরের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দু গ্রুপের অনুসারীদের।
আন্দোলনকারীর সংখ্যা কম হলেও, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও কেরালা রাজ্যের শীর্ষ আদালত বারবার জানিয়েছে, নির্মাণকাজ শুরু করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। কিন্তু পুলিশ সম্ভাব্য সামাজিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক।
ফোর্বসের তথ্য মতে, বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানি। প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিকম বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে আদানির বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। দক্ষিণ ভারতে পরিকল্পিত এ মেগা বন্দরটি আদানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। প্রকল্পটি কিন্তু এই সংকট পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো সমাধান মিলছে না। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্দর নির্মাণ শুরুর পর উপকূলে মাত্রাধিক ভূমিক্ষয় এবং ৫৬ হাজার সদস্যের জেলেসম্প্রদায়ের জীবিকা বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা সরকারের কাছে এই বন্দর নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং এর ফলে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা তা সমীক্ষা করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অবশ্য কেরালা সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছিল, উপকূলে ভূমিক্ষয় সাইক্লোন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়েছে, বন্দরের জন্য নয়।
এদিকে আদালতের সবুজ সংকেত পেয়ে আগামী শুক্রবারই বন্দরে ভারী যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে আদানি গ্রুপ। চলতি সপ্তাহে আদালত এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, কোনোভাবেই ওই এলাকায় যান চলাচলে বাধা দেয়া যাবে না। এরপরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদানির সংস্থা।
বিক্ষোভকারীদের নেতা ইউজিন এইচ পেরেইরা বলেছেন, আদালতের আদেশ সত্ত্বেও তারা বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যাবে না। প্রয়োজনে তারা জেলে যেতেও রাজি আছে।










