চলতি বছরে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১০ লাখ টনের মতো গম আমদানি করতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
খবর সিনহুয়া।
কেনিয়াতে খুব একটা গম উৎপাদন হয় না।
কৃষিপণ্যটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার বেশির ভাগ দেশটি বহির্বিশ্ব থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে।
এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া ও গমের আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া।
ফলে চলতি বছর দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন আরো কমে আসতে পারে।
অন্যদিকে দিন দিন দেশটিতে গম ও গমজাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।
এ কারণে এবার দেশটিকে গত বছরের তুলনায় অতিরিক্ত গম আমদানি করতে হতে পারে।
কেনিয়ার সিরিয়াল গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিইও অ্যান্থনি কিয়োকো বলেন, দেশটিতে এবার গমের উৎপাদন ৩ লাখ ৫০ হাজার টনে স্থির থাকতে পারে।
দেশটির নতুন কীটনাশক আইন নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় কিয়োকো বলেন, কেনিয়াতে ক্রমবর্ধমান হারে গমের চাহিদা বাড়ছে।
এর কারণ হিসেবে তিনি নগরায়ণকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, নগরায়ণের প্রভাবে কেনিয়ার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে।
এতে দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান খাদ্যশস্য ভুট্টার পরিবর্তে গমজাতীয় পণ্য অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কেনিয়া গম আমদানির প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিতে পারে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকেও কৃষিপণ্যটি আমদানি করতে পারে।
কেনিয়াতে গমের উৎপাদন খরচ বেশি।
এ কারণে দেশটির অধিকাংশ মিলার স্থানীয় গম ক্রয়ের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানীকৃত গমের ওপর নির্ভর করে।
রাশিয়া, ইউক্রেনসহ বিশ্বের প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর কৃষকরা এ খাতে সরকারি ভর্তুকি পান।
এ কারণে এসব দেশে পণ্যটির উৎপাদন খরচ কম থাকে।
কেনিয়ার কৃষকরা এ ধরনের কোনো সুবিধা না পাওয়ায় দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি।
এছাড়া গমের আবাদে ব্যবহূত সারের দাম বেশি ও উপযুক্ত বীজের অভাবে দেশটিতে পণ্যটির আবাদ নিম্নমুখী রয়েছে।
দেশটিতে আনুমানিক দুই লাখ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়ে থাকে।
এদিকে কেনিয়াতে এবার সব মিলিয়ে ৩৬ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে। এর বিপরীতে দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা রয়েছে ৪৬ লাখ টন। অর্থাৎ দেশটিতে ভুট্টার সরবরাহ ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ১০ লাখ টন। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আমদানির মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণ করা হবে বলে জানান









