চাল বিশ্বের জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে ৩৫০ কোটির বেশি মানুষের নিত্যদিনের আহার এটি। শর্করা ও ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস চাল থেকে তৈরি হয় ভাত ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য। প্রচলিত সিদ্ধ চালের পাশাপাশি অনেক ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ চাল রয়েছে। কিছু চাল রয়েছে যেগুলোর দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ উৎপাদন পদ্ধতি, স্বাদের অনন্যতা কয়েকটি জাতের চালের দামকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনই কিছু দামি চাল নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের আজ দ্বিতীয় পর্ব—

আপনি যদি গুগলে ‘ওয়ার্ল্ড মোস্ট এক্সপেনসিভ রাইস’ লিখে অনুসন্ধান করেন, তবে শুরুতেই আসবে কিনমেমাই প্রিমিয়ামের নাম। বিশ্বের সবচেয়ে দামি চালের তালিকায় এখন পর্যন্ত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে এ নামটিই লেখা রয়েছে। কিনমেমাই প্রিমিয়ামের জন্মস্থান জাপান। ব্যতিক্রমধর্মী ও ব্যয়বহুল খাদ্যপণ্য উৎপাদনে দেশটি বরাবরই অগ্রগণ্য। জাপানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের মিশ্রণে তৈরি হয় কিনমেমাই প্রিমিয়াম চাল। চালটি তৈরিতে ব্যবহার হয় বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি। শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণ বিচারে কিনমেমাই প্রিমিয়ামের ধারেকাছে কেউ নেই।


কিনমেমাই প্রিমিয়াম বাজারে এসেছে জাপানের বিখ্যাত খাদ্যশস্য কোম্পানি টয়ো রাইস করপোরেশনের হাত ধরে। চাল শিল্পের নতুন ক্যাভিয়ার খ্যাত কিনমেমাই প্রিমিয়ামের প্রতি কেজি কিনতে আপনাকে খরচ করতে হবে ১০৯ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে নয় হাজার টাকা! ২০১৬ সালের ৩০ জুন জাপানের টোকিওতে প্রতি কেজি কিনমেমাই প্রিমিয়াম ১০৯ ডলারে বিক্রি হয় এবং এদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ দামে বিক্রীত চালের খেতাব পায় খাদ্যপণ্যটি। এর আগে ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনটেস্ট অন রাইস ইভলিউশনে চালটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে উত্কৃষ্ট চাল’ হিসেবে স্বর্ণপদক অর্জন করে।

এখন প্রশ্ন হলো, বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে যা চালটিকে এতটা দামি করে তুলেছে? মূলত বিশেষ উৎপাদন পদ্ধতিই এর পেছনের মূল কারণ। এ উৎপাদন পদ্ধতিই কিনমেমাই প্রিমিয়ামকে করে তুলেছে স্বাদে অতুলনীয় ও পুষ্টিগুণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। রান্নার আগে চালটি ধোয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আধা ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রেখে পরিমিত পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিলেই চলে। রান্নার পরও চালটির জ্বলজ্বলে ভাব অক্ষুণ্ন থাকে। খাওয়ার সময় এর অনন্য মিষ্টি কোমল স্বাদ আপনাকে স্বাগত জানাতে ভুল করবে না। এটা তুলতুলে, সঠিক মাত্রায় আঠালো ও জিহ্বায় দীর্ঘক্ষণ একটা রেশ ধরে রাখতে সক্ষম, যা আপনাকে বারবার কিনমেমাই প্রিমিয়ামের কাছে ফিরিয়ে আনবে।

কিনমেমাই প্রিমিয়াম মূলত একক কোনো চাল নয়। জাপানের শীর্ষ মানের কয়েকটি শস্য ব্র্যান্ডের মিশ্রণ থেকে চালটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে নিগাতা অঞ্চলের বিখ্যাত কশিহিকারি এবং কুমান্ত অঞ্চলের নিকোমারু চাল অন্যতম। প্রত্যাশিত স্বাদ ও পূর্ণ পরিপক্বতা লাভের জন্য ছয় মাস বয়সের আগে নির্বাচিত ধান ভাঙা হয় না। এরপর টয়ো রাইসের বিশেষায়িত প্রযুক্তিতে ধান ভেঙে চাল তৈরি করে। পেটেন্টযুক্ত প্রযুক্তিটি ধানের কেবল অপাচ্য আবরণটুকু সরিয়ে ফেলে এবং যথাযথভাবে পলিশ করে। ফলে চালগুলো দেখতে যেমন নিখুঁত আকার ধারণ করে, তেমনি পুষ্টি উপাদানও সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকে।


প্রক্রিয়াজাত কিনমেমাই প্রিমিয়াম ভিটামিন বি-১, বি-৬, ই, বি-৩ ও ফলিড এসিডে পরিপূর্ণ। একই সঙ্গে সাধারণ জাতের তুলনায় ছয় গুণ বেশি লিপোপলিস্যাকারাইড (এলপিএস) ধারণ করে চালটি। লিপিড ও পলিস্যাকারাইডের মিশ্রণ শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধির আশঙ্কা হ্রাস করে। জাপানের বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে কিনমেমাই প্রিমিয়ামের বাজারজাত করেছে টয়ো কেম্পানি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও হংকংয়ে চালটি সরবরাহের চিন্তাভাবনা রয়েছে কোম্পানিটির।

সিএনবিসি লাইফস্টাইল ও দ্য ডেইলি মিল