চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর সারা বিশ্বের মানুষ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে। তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সুলভ মূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদানকারী দেশগুলোর পর্যটন খাতে। চিকিৎসাসেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মেডিকেল ট্যুরিজম। তবে কভিড মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট চলমান বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে কমেছে মেডিকেল পর্যটন। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত টাকা মানুষের হাতে থাকছে না। তাই তারা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নিতান্ত জীবনমরণ সমস্যা না হলে মানুষ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যয় করছে না। কসমেটিক সার্জারির মতো বিলাসী চিকিৎসার তো প্রশ্নই ওঠে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চিকিৎসা খাত। খবর রয়টার্স।
কভিড মহামারীর সময়ে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। মেডিকেল ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি তখন বড় ধরনের ধাক্কা খায়। বর্তমানে তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এ খাতের সুদিন ফেরেনি।
হাঙ্গেরিতে একটি ডেন্টাল হাসপাতালের পরিচালক অ্যাটিলা নট। সেখানে বিদেশী রোগীর সংখ্যা একেবারে কম। শূন্য করিডোরের দিকে তাকিয়ে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন অধিকতর সতর্ক। দাঁতের চিকিৎসার মতো ব্যাপারে এককালীন বড় অংকের টাকা ব্যয় করতে তারা দুবার চিন্তা করে।’ ইউক্রেনের সঙ্গে হাঙ্গেরির সীমান্ত আছে। এটিও বিদেশী রোগীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। কভিডের আগে প্রতি মাসে তার হাসপাতালে প্রায় ৬০০ রোগী সেবা নিত। বর্তমানে সে সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই নতুন সেবা যোগ করার চিন্তা করছেন তিনি। কোলনোস্কপি ও হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো জরুরি চিকিৎসা শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বহু বছর ধরে ব্রিটিশ ও নর্থ আমেরিকার রোগীরা হাঙ্গেরি ও তুরস্কের মতো ক্লিনিকগুলোয় চিকিৎসা নিচ্ছে। নিজেদের দেশে একই চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
বৈশ্বিক সংকটের কারণে কমেছে ফ্লাইটের সংখ্যা। কিন্তু দ্বিগুণ হয়েছে ভাড়া। এসব কারণেও কমছে সম্ভাব্য রোগীর সংখ্যা। ক্লিনিক অপারেটর ও বিশ্লেষকরা রয়টার্সকে এমন ধারণাই দিয়েছেন।
চিকিৎসার জন্য ব্রিটিশ নাগরিকদের অন্যতম গন্তব্যস্থল তুরস্ক। সেখানকার মেডিকেল সেক্টরেও বিদেশী রোগীর সংখ্যা কমেছে। উইকিউরের দেয়া তথ্যানুসারে, তুরস্কগামী এয়ারলাইন টিকিটের দাম ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। তাই ব্রিটিশ নাগরিকরা আর আগের মতো চিকিৎসা সেবা নিতে সে দেশে যাচ্ছেন না।
তবে উচ্চব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রাখতে গিয়ে অনেক হাসপাতাল তাদের সেবার মূল্য বৃদ্ধি করেছে। লিথুয়ানিয়ার নরডোর্থোপেডিকস হাসপাতালে হাঁটু প্রতিস্থাপনের ব্যয় গত পাঁচ বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এ কারণেও রোগীর সংখ্যা কমেছে।










