ইউরোপের বাজারে গমের দাম নিম্নগামী হয়েছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের উৎপাদন বৃদ্ধি ও একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাষের খবরের মধ্যেই ইউরোপে কমে আসছে গমের দাম। খবর রয়টার্স।
ইউরোপীয় বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টক এক্সচেঞ্জ ইউরোনেক্সটের আগামী মে মাসের সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টন গমের দাম ধরা হয়েছে ২৬০ দশমিক ২৫ ইউরো, যা গত মৌসুমের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কম।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটিতে ৪ কোটি ৯৮ লাখ একর জমিতে গম চাষ হয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে জমির পরিমাণ ৪ কোটি ৮৫ লাখ একর। গত মৌসুমে সেখানে গম চাষ হয়েছিল ৪ কোটি ৫৭ লাখ একরে।
মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে দাম বাড়তি থাকায় গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা। তারা গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে গমের উৎপাদন ১২ শতাংশ বাড়িয়েছেন। যদিও আশঙ্কা করা হচ্ছে খরার কারণে ফলন কিছুটা কম হতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রান্সে পুরো শীত মৌসুমে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল গমসহ অন্যান্য শস্যের ফসল। ফরাসি কৃষি বিভাগের মতে, গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত ৯৩ শতাংশ ফসলই খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ৯০ শতাংশ ফসল খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে। যেখানে গত বছর এই হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শস্য রফতানিকারক দেশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। যুদ্ধের কারণে পণ্যের দামের পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া আর আমদানি খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে থাকে। তবে গত বছরের শেষ দিক থেকে কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করে। ভুট্টা ও গমের দাম নিম্নগামী হলেও চালের দামে এখনো বাড়তি।
এদিকে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমের সাড়ে আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গম রফতানি এর আগের মৌসুমের তুলনায় লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। ইউরোপিয়ান কমিশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
গত বছরের জুলাইয়ে বিপণন মৌসুম শুরু হয়। এ বছরের জুনে শেষ হবে। মৌসুমের শুরু থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত গম রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টন। ২০২১-২২ মৌসুমের একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার টন। সে হিসাবে রফতানি বেড়েছে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনের বেশি।
ইউরোপিয়ান কমিশন জানায়, গম রফতানি বাড়লেও কমেছে যব। চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলো ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টন যব রফতানি করেছে। গত মৌসুমের একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ৬১ লাখ ৮০ হাজার। মৌসুমের এখন পর্যন্ত ব্লকটির ভুট্টা আমদানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শস্যটি আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার টন। গত মৌসুমের একই সময় যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ টন।









