সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ব্যাপক হারে বেড়েছে শুকনো হলুদ আমদানি। গত এক বছরে মসলাজাতীয় পণ্যটির আমদানি বেড়েছে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদায়ী অর্থবছরে আমদানি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ভোমরা বন্দর দিয়ে ৩৬৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শুকনো হলুদ আমদানি করা হয়েছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু গত জুনেই ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শুকনো হলুদ আমদানি করা হয়।

ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলাজাতীয় পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, তার প্রতিষ্ঠান মাসে ২০০-২৫০ ট্রাক শুকনো হলুদ আমদানি করে। আমদানীকৃত এসব হলুদ ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বিদায়ী অর্থবছর হলুদ আমদানি বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের খুচরা মসলাজাত পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ঠাকুর স্টোরের মালিক সাহা ঠাকুর জানান, বর্তমানে গুঁড়ো হলুদ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। তবে স্থানীয়ভাবে যে পরিমাণ হলুদ উৎপাদিত হয় তা দিয়ে জেলার চাহিদা মেটে না। আমদানীকৃত হলুদে চাহিদা মেটানো হয় বলে জানান তিনি।

ভোমরা শুল্কস্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী বলেন, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে শুকনো হলুদ আমদানি হয়েছে ৩২ হাজার ৭৯৯ টন। এর বাণিজ্যিক মূল্য ৩৬৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের শেষ মাসে আমদানি করা হয় ২ হাজার ৭০২ টন। তিনি আরো বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভোমরা বন্দর দিয়ে শুকনো হলুদ আমদানি করা হয়েছিল ২০ হাজার ৯৮ টন, যার বণিজ্যিক মূল্য ২২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসলাজাতীয় সব পণ্য আমদানি করার অনুমতি নেই। তার পরও শুকনো হলুদ বড় পরিসরে আমদানি করা হয়। তবে অন্যান্য গরম মসলাজাতীয় পণ্য আমদানির সুযোগ দিলে সরকার যেমন বেশি রাজস্ব পাবে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হতে পারতেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় হলুদ উৎপাদিত হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ টন। আবাদ করা হয়েছিল ৭০৫ হেক্টর জমিতে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের হলুদচাষী গোপাল চন্দ্র জানান, চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে এ মসলাজাতীয় পণ্য আবাদ করে প্রায় ১৫ মণ হলুদ উৎপাদিত হয়েছিল। উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ২২ হাজার টাকা লাভ হয়।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, জেলায় হলুদ চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ কমে গেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হলুদ উৎপাদনে সময় লাগে অনেক বেশি। তবে অনেকে হলুদের সঙ্গে অন্যান্য ফসলও চাষ করছেন বলে জানান তিনি।