কভিড-১৯ মহামারীর ধকল কাটাতে বিশ্বের অনেক দেশই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলো এরই মধ্যে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে নজর দিয়েছে। ফলে এসব দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে বেড়েছে জ্বালানি তেলের চাহিদা। বিশ্বের অর্থনৈতিক গতি ত্বরান্বিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদাও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তা সত্ত্বেও বেশকিছু কারণেই বৈশ্বিক জ্বলানি তেলের চাহিদা এখনই আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও মনে করছেন তারা। খবর রয়টার্স।

২০২৩ সালের আগে বৈশ্বিক জ্বলানি তেলের চাহিদা করোনা মহামারীর আগের স্তরে ফিরবে না বলে মনে করছে প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। নতুন কার্যাভ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দূরে সরে আসায় বিশ্বের জ্বলানি তেলের চাহিদা সহসাই খুব একটা বাড়ছে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আইইএর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর দৈনিক জ্বালানি তেল ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৯০ লাখ ব্যারেল। সেখান থেকে উন্নীত হয়ে ২০২৩ সালে জ্বলানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা গড়ে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছবে। সংস্থাটির এক প্রতিবেদন বলছে, করোনা মহামারীতে লকডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষকে এক ধরনের গৃহবন্দি জীবন যাপন করতে হয়েছে। ফলে রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনশূন্য হয়ে যায়। অবস্থার ভয়াবহতা কমাতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এ সময় তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রাখে। ফলে গত বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে যেতে দেখা যায়। তবে করোনাশেষে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা।

গত বছর আইইএর এক পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি দশকের মাঝামাঝিতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল কমে আসবে। পেট্রলের ব্যবহার এরই মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় জ্বালানি তেলের চাহিদা সম্ভবত আর মাহমারীর আগের অবস্থায় ফিরবে না। অর্থাৎ জ্বালানি তেলের বাজার কভিড-পরবর্তী সময়ে আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আইইএ বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ এরই মধ্যে গত বছরের চেয়ে নিচে নেমে এসেছে। চলতি বছরের মার্চের প্রথম দিকে লন্ডনে জ্বালানি তেলের ব্যারেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। তবে এটি একটি আংশিক পরিসংখ্যান। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে সৌদির নেতৃত্বে ওপেক প্লাসের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন অনেকাংশে কমে যাওয়ায় বিশ্বে তেলের দাম বাড়ছে। ফলে সামনের বছরগুলোতে ওপেক প্লাসের সদস্যরা বড় লাভবান হবে।