রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জ্বালানি বাণিজ্য আগের তুলনায় পোক্ত হয়ে উঠেছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল (ফুয়েল অয়েল) রফতানি ক্রমেই বাড়িয়েছে রাশিয়া। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

রেফিনিটিভ এইকনের এক নোটে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) রুশ রফতানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ টন জ্বালানি তেল রফতানি করেছেন। এর মধ্যে শুধু জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ১০ লাখ ৭৮ হাজার টন জ্বালানি তেল। জুনের তুলনায় গত জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন আমদানিকারকদের জন্য ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর বিকল্প হিসেবে তারা রাশিয়ার ওপর ঝুঁকেছেন। করোনা মহামারীর মধ্যেও চলতি বছরের শুরু থেকেই রুশ-মার্কিন জ্বালানি তেল বাণিজ্য পোক্ত হতে শুরু করে। জুলাইয়ে এসে দুই দেশের জ্বালানি তেল বাণিজ্যে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে।

আগে ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতেন মার্কিন আমদানিকারকরা। তবে গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরির লক্ষ্যে ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভেনিজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্যের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

মূলত এর পর পরই জ্বালানি তেল আমদানিতে রাশিয়ামুখী হয়েছেন মার্কিন আমদানিকারকরা। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যে রাশিয়ার সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ রয়েছে। তবে তুলনামূলক কম দাম ও পরিবহন ব্যয় কম লাগায় রুশ-মার্কিন জ্বালানি তেল বাণিজ্য অল্প সময়ের মধ্যে জোরদার হয়ে উঠেছে। একের পর এক মার্কিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফুয়েল অয়েল আমদানিতে রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ঝুঁকতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন আমদানিকারকরা রাশিয়ার কাছ থেকে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছেন। ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর রাশিয়া থেকে মার্কিন বাজারে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মার্কিন আমদানিকারকরা মূলত রাশিয়ার বাল্টিক সাগরের আশপাশের বন্দরগুলো দিয়ে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করছেন। চলতি বছর দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি পণ্যটির বাণিজ্য আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি করোনা মহামারীতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদায় পতন ঘটলেও রুশ-মার্কিন জ্বালানি বাণিজ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতি বদলাবে না বলে মনে করা হচ্ছে।