দেশে স্বর্ণ শিল্পের বিকাশে সরকারের দেয়া নীতিসহায়তার সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে জব্দ হওয়া অবৈধ স্বর্ণকে সহজ শুল্কায়নের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এ শিল্প নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেয়া সম্ভব হলে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। স্বর্ণ বিশ্বের ৩০তম মার্চেন্ডাইজ পণ্য। এর বিশ্ববাজার ৪০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে অলংকারের বাজার ৯৩০ কোটি ডলারের। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী তৃতীয় ‘বাজুস ফেয়ার-২০২৪’-এর শেষ দিনের একটি সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘অলংকারের মান নিয়ন্ত্রণে করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘মাছবাজারের মতো আপনি স্বর্ণ বিক্রি করবেন, আপনিই পরীক্ষা করবেন, তা হতে পারে না। এর জন্য বিএসটিআই ও সরকারের দায়িত্ব আছে। এক্ষেত্রে আমাদের শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের একটি শক্ত নীতিমালা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এ নীতিমালায় আমাদের ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবাই যেন উপকৃত হন, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হলমার্ক যাতে সত্যিকারের হলমার্ক থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

বিকালে ‘স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়ন ও অলংকার রফতানির সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান এবং জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বাজারে এখনো অনেক স্বর্ণ আছে, যা ঘোষণার মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়নি। এসব স্বর্ণকে সহজ শুল্কায়নের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ধরা পড়া চোরাচালানের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়ে আছে। এগুলো কোনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই সহজ নীতিমালার মাধ্যমে এসব স্বর্ণ বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

নীতিমালার সহজ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘নীতিমালার সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। স্বর্ণের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে যেতে হবে। এর কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বাজুস দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। সম্প্রতি এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এখনো পুরোপুরি লড়াইটা শুরু করতে পারেনি। এ খাতের সমৃদ্ধির জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বর্ণ শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের দেয়া নীতিসহায়তার পুরোপুরি সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে লড়াই করে চূড়ান্ত দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে হবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ইতিবাচক ‍ভূমিকা নেয়া গেলে স্বর্ণ ও অলংকার শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের অলংকার তৈরির কারিগরদের বিশ্ববাজারে সুখ্যাতি আছে। তাদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। তাই যারা আছেন, তাদের দক্ষতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এ খাতের বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই। সঠিক তথ্যও নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘এ শিল্পের বিকাশে ছোট-মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিশেষ তহবিল, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে আনা এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেয়া যেতে পারে।’ এছাড়া প্রণোদনা, নীতিসহায়তা, বন্ড সুবিধা অলংকার রফতানিতে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।

বাজুস ফেয়ারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এতে সভাপতিত্ব করেন বাজুসের সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর।