রাজধানীর একটি ক্লাবে গতকাল বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি এসব দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সিসি স্ল্যাব পুনর্গঠন করে ১-১৫০০ সিসির পরিবর্তে ১-১২০০ সিসি এবং ১২০১-১৬০০ সিসি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব গাড়ির ওপর বিদ্যমান মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ করা হয়েছে।’ এতে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বারভিডার তথ্যানুযায়ী, নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে একটি রিকন্ডিশন্ড টয়োটা প্রিমিওর দাম প্রায় ৩ লাখ এবং টয়োটা এক্সিওর দাম আড়াই লাখ টাকার মতো বেড়ে যেতে পারে। এতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতা কমে যাবে, আমদানিকারকরা বিনিয়োগ সংকটে পড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আয়ও কমতে পারে বলে দাবি সংগঠনটির।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। এছাড়া ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে উভয় ক্ষেত্রেই ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক বলছে বারভিডা।

এ কারণে রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি শুল্ক নতুন গাড়ির সমপর্যায়ে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়িকেও প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে। বারভিডার ভাষ্য, হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ির ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত সুফলও মিলবে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন, উৎপাদক দেশে মূল্যবৃদ্ধি এবং ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ের ব্যবসায়িক মন্দার কারণে গাড়ির আমদানি ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে মোটরযানের বাজার সম্প্রসারিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সংকুচিত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

তবে প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বারভিডা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রায় চার দশক ধরে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির মাধ্যমে দেশের পরিবহন খাতে অবদান রেখে আসছে তারা এবং ভবিষ্যতেও যথাযথ রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারের পাশে থাকতে চায়।