আগামী বছর চা রফতানির মাধ্যমে ১৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে শ্রীলংকা। সেই সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার আয়ের মাধ্যমে ২০২২ সাল শেষ করার আশা প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি শ্রীলংকার চা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিল্প নিয়ন্ত্রক ও প্রচারণা পর্ষদের প্রধান নিরাজ দে মেল এ কথা জানিয়েছেন। খবর ইকোনমিনেক্সট।

২০২৩ সালে চা বোর্ড মোট ২৯ কোটি কিলোগ্রাম চা উৎপাদনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। সেই সঙ্গে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টন চা আমদানির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে। ২০২২ সালের প্রথম ১০ মাসে শ্রীলংকা ২১ কোটি ১০ লাখ কিলোগ্রাম চা বাজারজাত করেছে এবং ১০৫ কোটি ডলার আয় করেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিরাজ দে বলেন, উৎপাদনের দিক থেকে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে শ্রীলংকার চা উৎপাদন ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ বা চার কোটি কিলোগ্রাম কমেছে। অন্যদিকে রফতানির দিক থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে গত বছর রফতানি বেড়েছে। ফলে চলতি বছরও রফতানি ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত আমরা ২১ কোটি ১০ লাখ কিলোগ্রাম চা রফতানি করেছি।

দে মেল জানান, ২০২০ সালে ২৫ কোটি কিলোগ্রাম চা রফতানির মাধ্যমে ১০৩ কোটি ডলার আয় হয়েছিল। যেখানে ২০২১ সালে ২৩ কোটি ৬০ লাখ কিলোগ্রাম চা রফতানির মাধ্যমে মাত্র ১১০ কোটি ডলার ফরেক্স রাজস্ব আয় করা গেছে। চায়ের উৎপাদন কমলেও প্রচুর চাহিদা ও রুপির অবমূল্যায়নের কারণে নিলামে চায়ের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসে রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিষিদ্ধের পর উৎপাদন অনেকাংশে কমে গেছে বলে জানান দে মেল। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে যে পরিমাণ চা বিক্রি হতো তার পরিমাণও ১০-১৫ লাখ কিলোগ্রাম কমে গেছে।

দে মেল বলেন, চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য যতটুকু বিক্রির জন্য বরাদ্দ ছিল, সেখানেও টান পড়ছে। তবে ক্রেতারা যা পাচ্ছে তাই কেনার চেষ্টা করছে। এসব কারণে আমাদের উৎপাদন কম থাকলেও দাম অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, উচ্চমূল্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু উচ্চ চাহিদা থাকায় সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রুপির ৭০-৭৬ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। কিন্তু চায়ের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। যে কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি চায়ে ২৯০-৩০০ রুপি বেশি পাচ্ছে।