দীর্ঘদিন ধরে প্রধান খাদ্য চালসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে নেপাল সরকার। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত সেটি দৃশ্যমান হয়নি। এরই মধ্যে নতুন করে তথ্য এসেছে যে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই দেশটির চাল আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। খবর মাই রিপাবলিকা
নেপালের কাস্টমস বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশটিতে ২৬৬ কোটি রুপির (স্থানীয় মুদ্রা) চাল আমদানি করা হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করা হয় ১২৫ কোটি রুপির চাল।
আর নেপালের প্রধান খাদ্য হিসেবে আমদানি করা এ চালের প্রায় অধিকাংশ এসেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। এছাড়া খুবই সামান্য পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে ভিয়েতনাম থেকে। তবে দেশ দুটি ছাড়াও থাইল্যান্ড, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও চাল আমদানি করে নেপাল।
গত অর্থবছরে চাল আমদানিতে নেপালের ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি রুপি। অন্যদিকে চলতি বছরে করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী চলা লকডাউনের মধ্যেই দেশটির চাল আমদানি বেড়েছে। গত ২৪ মার্চ দেশটিতে লকডাউন শুরু হয়। এরপর থেকে পাঁচ মাসেই ১ হাজার ১০৬ কোটি রুপির চাল আমদানি করা হয়েছে। মূলত করোনাভাইরাসের কারণেই চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বাড়াতে হয়েছে।
নেপালের কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে আবাদি জমি দিনে দিনে কমে যাওয়ায় ধানের চাষও কমে আসছে। কেবল গত দশকেই দেশটিতে ধানের আবাদ কমেছে ১ লাখ হেক্টরের মতো। যেখানে প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৮ টন ধান উৎপাদন হতো। ফলে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশটিতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে আসছে, যা পরোক্ষভাবে দেশটিকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।
অন্যদিকে মানবসৃষ্ট সমস্যার পাশাপাশি নেপালের কৃষিতে প্রাকৃতিক সৃষ্ট দুর্যোগও অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া, অতিবৃষ্টি, বন্যা, জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়া, নিম্নমানের বীজের সরবরাহ এবং সর্বোপরি পোকার উপদ্রব দেশটির কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিয়েছে।










