সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছরে শুকনা হলুদ আমদানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শুকনা হলুদ আমদানি বেড়েছে অন্তত ২৫ শতাংশ। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশীয় বাজারে চাহিদা থাকায় আমদানি বেড়েছে পণ্যটির।

অন্যদিকে আমদানি বাড়লেও বাজারে গুড়া হলুদের দাম বাড়ছে। এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে গুড়া হলুদ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দর দিয়ে শুকনা হলুদ আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৭ টন। যার আমদানি মুল্য ২৩৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। 

অন্যদিকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত শুকনা হলুদ আমদানি হয়েছিল ১৩ হাজার ২০৫ টন। যার আমদানি মূল্য ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৪ হাজার ৭৪২ টন।

ভোমরা স্থলবন্দরের মসলাজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, শুকনা হলুদসহ ভোমরা বন্দরে অনুমোদিত সব ধরনের মসলাজাত পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বছরের ১২ মাসই তিনি মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি করে থাকেন। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে তার প্রতিষ্ঠানে শুকনা হলুদ আমদানি বেড়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় পণ্যটির আমদানি ২০-২৫ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘‌দেশীয় বাজারে চাহিদা বাড়ায় মূলত আমদানি বেড়েছে হলুদের।’ আমদানীকৃত এসব শুকনা হলুদ ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয় বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারের কয়েকটি মসলা বিপণি আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গুঁড়া হলুদের দাম ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। এ বাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী ও আড়তদার মো. জহুরুল হক জানান, হলুদ যে পরিমাণ আমদানি হয় চাহিদা তার চেয়ে বেশি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে চলেছে পণ্যটির। 

তিনি বলেন, ‘‌এক থেকে দেড় মাস আগেও যে গুড়া হলুদ বিক্রি হয়েছে কেজি ১৬০-১৭০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা পর্যন্ত।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বণিক বার্তাকে জানান, মসলাজাত পণ্যের মধ্যে শুকনা হলুদ আমদানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর অন্তত ২০-২৫ শতাংশ আমদানি বেড়েছে শুকনা হলুদের। তাছাড়া পণ্যটি আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয়ও ভালো হয় বলে জানান তিনি।