চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা সংকুচিত হয়েছে। করোনা মহামারী মোকাবেলায় দেশটির প্রণীত নিষেধাজ্ঞা কারখানার কার্যক্রম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশটি জিরো কভিড নীতি থেকে সরে আসায় আগামী বছর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির শিল্প খাতের অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) প্রকাশিত তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে শিল্প খাতের মুনাফা ৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি ইউয়ানে (১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে। এ মুনাফার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এর আগে জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে মুনাফা কমার হার ছিল ৩ শতাংশ। এনবিএস নভেম্বরের জন্য আলাদা করে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকরা গুয়াংঝু ও জেংঝুর মতো বড় উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় দীর্ঘমেয়াদে মূলধন সংকট এবং রফতানি খাতে শ্লথগতির ফলে মুনাফার সংকোচন লক্ষ করেছেন। তবে তারা আশা করছেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছর শিল্প মুনাফায় একটি জোরালো পুনরুদ্ধার শুরু হতে পারে। যদিও স্বল্পমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ কভিড বিধিনিষেধ তুলে দেয়ার পর চীনজুড়ে ব্যাপক আকারে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের নভেম্বরে চীনের শিল্প খাতের উৎপাদন ২০২১ সালের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ হার গত মে মাসের পর থেকে সবচেয়ে ধীরগতি। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা অক্টোবরে ৫ শতাংশ এবং নভেম্বরে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বছরওয়ারি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিলেও তা পূরণ হয়নি।
বেইজিং যদিও ডিসেম্বরের শুরুতে কভিড বিধিনিষেধগুলো বাতিল করেছে এবং ২৬ ডিসেম্বর ঘোষণা করেছে ৮ জানুয়ারি থেকে আগত ভ্রমণকারীদের জন্য কোয়ারেন্টিন বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে শীতের মাসগুলোয় চীনা অর্থনীতিকে বেশ সংকটের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। কেননা সংক্রমণ বাড়লে দেশটির অধিকাংশ জনসংখ্যা সংক্রমিত হবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সময় আরো বেশি লাগবে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় সংকুচিত হতে পারে। পাশাপাশি তারা আগামী বছরের পূর্বাভাসেও কাটছাঁট করছেন। চতুর্থ প্রান্তিকে তারা বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ২ শতাংশ নামিয়ে এনেছিলেন। তবে ২০২৩ সালের জন্য প্রবৃদ্ধি হার ৪ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে বাড়িয়েছেন।










