যুক্তরাষ্ট্রে রিটেইল বা খুচরা খাতে অপরাধমূলক কার্যক্রমের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনায় ২০২২ সালে ১১ হাজার ২১০ কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার। অপরাধের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে লস অ্যাঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, নিউইয়র্ক ও সিয়াটলে। মার্কিন খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের (এনআরএফ) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
এনআরএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড জনস্টন বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতারা তাদের স্টোরগুলোয় অভাবনীয় চৌর্যবৃত্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ব্যবসার পরিধি নির্বিশেষে সব খুচরা ব্যবসায়ীর জন্য এসব অপরাধের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে খুচরা বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরে সংকোচনের মাত্রা ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর এ সংকোচনের ৬৫ শতাংশের জন্যই দায়ী চুরির মতো ঘটনাগুলো। চলতি অর্থবছরেও এ ধরনের অপরাধের কারণে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুগতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে গ্রাহকদের চাহিদা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে এমন অপরাধের ঘটনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
খুচরা বিক্রেতারা হয় তাদের স্টোরগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে, অন্যথায় পরিচালনাগত পরিবর্তন আনছে। কেউ কেউ স্টোরের পণ্যের বিন্যাসে পরিবর্তন আনছে। জরিপে অংশ নেয়া ২৮ শতাংশই স্টোর বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। ৪৫ শতাংশ বলেছেন, তারা দোকান খোলা রাখার সময়সীমায় পরিবর্তন এনেছেন। তার পরও প্রতিহত করা যাচ্ছে না অপরাধ। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ডলার ট্রি জানিয়েছে, চুরির আশঙ্কা বেশি, এমন পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
কোনো কোনো বিক্রেতা অবলম্বন করেছেন নতুন পন্থা। তারা স্টোরে বিশ্বস্ত ব্যক্তি কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, সিকিউরিটি গার্ডদের খরচ কিংবা সিসিটিভি ও নজরদারি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওয়ালমার্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন রাইনি জানান, স্টোরের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে তাদের সশস্ত্র প্রহরী রাখতে হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, সংগঠিত রিটেইল অপরাধ (ওআরসি) ক্রমে সহিংস হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেয়া ৬৭ শতাংশের অভিমত ছিল, রিটেইল খাতে সহিংসতা এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে।
কোন ধরনের পণ্য চুরি হয়, সেটি সবসময় দামের ওপর নির্ভর করে না। সব ধরনের পণ্যেই চুরির উদাহরণ রয়েছে। তবে ব্যাটারি, এনার্জি ড্রিংকস, জুতা ও রান্নাঘরের সামগ্রী চুরির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
চলতি বছরের ন্যাশনাল রিটেইল ফাউন্ডেশনের জরিপে ১৭৭টি ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯৭ হাজার স্থানে তাদের স্টোর রয়েছে। ২০২২ সালে ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।










