কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ থেকে উঠে আসার পর দুবাইয়ের হোটেল ব্যবসা বেশ শক্তিশালী। শহরটিতে গত বছর হোটেল বুকিংয়ের হার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি। খবর আরব নিউজ।
দুবাই হসপিটালিটি রিপোর্টে কেপিএমজি জানিয়েছে, ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হোটেল বুকিংয়ের হার দেখা গেছে। ২০২২ সালে দুবাইয়ের পর্যটন খাত দেশটির অর্থনীতিতে মোট ২ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারের অবদান রেখেছে। কভিড-১৯ মহামারী থেকে দেশটির সরকারের পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা এবং আতিথেয়তা খাতের চাহিদা দুবাইকে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে শহরটির হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নীতি নিয়েও ৯০ শতাংশ মানুষ আস্থা প্রকাশ করেছে।
কেপিএমজির জরিপে ছয় শতাধিক গ্রাহক ও ৫০টি আবাসন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ভোক্তাদের অনুভূতিও তুলে ধরা হয়েছে। আর অতিথিদের অনুভূতি হোটেল পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ দুবাইয়ের হোটেলে থাকার জন্য আগ্রহী ছিল। এ হার আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।
কেপিএমজির লোয়ার গালফের অংশীদার এবং রিয়াল এস্টেটের প্রধান সিদ্ধার্থ মেহতা বলেন, ‘২০২২ সালে দুবাইয়ের আতিথেয়তা খাত বেশ প্রবৃদ্ধি দেখেছে। তা আতিথেয়তার স্টেকহোল্ডারদের চাহিদা পূরণের জন্য সরকারের অগ্রগামী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। সেই সঙ্গে আরো ৪৮ হাজার হোটেল রুম অধিগ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। তাতে সব মিলিয়ে তাদের হোটেল রুম হবে দুই লাখ। এসবই ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ভ্রমণ ও আতিথেয়তা চাহিদার ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি নতুন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে।’
বছরওয়ারি হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে দুবাইয়ের হোটেল বুকিংয়ের হার ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডিজিটালাইজেশন এবং স্থায়িত্বের দিকে নজর দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার কমিয়ে দেয়া, কার্বন নিঃসরণ কমানোর মতো পদক্ষেপও নেয়া হয় বেশ জোরালোভাবে। ২০২৩ সালজুড়ে স্পর্শবিহীন চেকইন, গ্রাহকরা মোবাইলেই তাদের হোটেল রুমের চাবি পেয়ে যাওয়া এবং অন্য আরো কিছু প্রযুক্তি আতিথেয়তা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।










