জুলাইয়ে চীনের মোট কয়লা আমদানি কমলেও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে। স্থানীয় সরবরাহের চেয়ে অস্ট্রেলিয়ান কয়লার দাম কম হওয়ায় চীনের আমদানিকারকরা সেখানকার উচ্চমানসম্পন্ন কয়লা আমদানি বাড়িয়েছেন। এদিকে তীব্র গরম আবহাওয়ার কারণে চীনের ইউটিলিটিগুলোয় চাহিদাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের দেয়া তথ্যমতে, চীন জুলাইয়ে ৬৩ লাখ ১০ হাজার টন অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানি করে। জুনে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টন। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে যেসব কয়লা আমদানি করা হয়েছে তার মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার টনই ছিল তাপীয় কয়লা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত এসব কয়লা আমদানি করে। অন্যদিকে ইস্পাত উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬১৯ টন ধাতব কয়লা। 

জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানি প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর পরও অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। চীনের গৃহস্থালিগুলোয় চলতি গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। আর এ চাহিদা মেটাতে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অস্ট্রেলিয়ান উচ্চমানসম্পন্ন কয়লার দিকে ঝুঁকেছে।

বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানায়, জুলাইয়ে ৫ হাজার ৫০০ কিলোক্যালোরিসমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়ান ধাতব কয়লা টনপ্রতি ৭০ ইউয়ান বা ৯ ডলার ৬২ সেন্টে আমদানি করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের চেয়ে অনেক কম। 

বিশ্লেষক ও বাজার অংশীজনদের প্রত্যাশা, বছরের বাকি সময়জুড়ে অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানি ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। দুই দেশের বাণিজ্যে কোনো ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও নেই। কঠোর খনি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে চীনে কয়লা উত্তোলন নিম্নমুখী। ফলে আমদানিকারকদের জন্য বড় ভরসার জায়গা আমদানি। তাছাড়া উচ্চমুনাফা মার্জিনও দুই দেশের মধ্যে কয়লা বাণিজ্যে গতি ফিরিয়েছে। 

এদিকে জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি কমেছে। জুনে দেশটি থেকে চীন ১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন কয়লা আমদানি করলেও জুলাইয়ে যা ৮৯ লাখ ৯০ হাজার টনে নেমে যায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ২১ শতাংশ বেড়েছে। 

মঙ্গোলিয়া থেকেও কয়লা আমদানি করে চীন। দেশটি থেকে বেশির ভাগই ধাতব কয়লা আমদানি করা হয়। জুলাইয়ে সেখান থেকে আমদানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে। জুনে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টন। তবে ইস্পাত উৎপাদন নিম্নমুখী থাকায় এটির কাঁচামাল ধাতব কয়লার চাহিদা ছিল কম।

শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা, জুনে যা ছিল ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টন।